রাসেল আহমেদ,খুলনা প্রতিনিধি
খুলনায় মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা মাসুম বিল্লাহকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যার ঘটনায় একদিন পর মামলা হয়েছে। নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে দায়ের করা মামলায় খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত গ্রেনেড বাবুসহ আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৮–৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৬ মার্চ) বিকেলে নিহত মাসুম বিল্লাহর স্ত্রী ফতেমাতুজ জোহারা খুলনা থানায় এসে এ হত্যা মামলা দায়ের করেন।
খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলায় গ্রেনেড বাবুসহ আটজনকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন অশোক ঘোষ ও জাবেদ গাজী। এর মধ্যে অশোক ঘোষকে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার গভীর রাতে সোনাডাঙ্গা থানার ২২ তলা ভবনের পাশের এলাকা থেকে জাবেদ গাজীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে বুধবার রাতে খুলনার একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে এক রোগীকে দেখতে যান শ্রমিকনেতা মাসুম বিল্লাহ। সঙ্গে ছিলেন পরিবারের সদস্যরাও। হাসপাতাল থেকে বের হয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কেনাকাটার উদ্দেশ্যে বাইরে বের হলে হঠাৎ একদল সন্ত্রাসী তাকে ধাওয়া করে।
প্রাণ বাঁচাতে মাসুম বিল্লাহ দ্রুত ডাকবাংলো মোড়ে অবস্থিত বাটার শোরুমে ঢুকে পড়েন। কিন্তু সন্ত্রাসীরা সেখানেও পিছু নেয়। পরে দোকানের ভেতরেই তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গুলি করে গুরুতর জখম করে। ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।
স্থানীয়দের দাবি, এর আগেও মাসুম বিল্লাহ প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছিলেন। গত ১৫ জানুয়ারি একটি সন্ত্রাসী চক্র মোবাইল ফোনে তাকে হত্যার হুমকি দেয়। এ ঘটনায় তিনি নিজের নিরাপত্তা চেয়ে রূপসা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন।
তবে জিডি করার পরও শেষ পর্যন্ত প্রাণ রক্ষা হলো না এই শ্রমিকনেতার। প্রকাশ্যে নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ বলছে, বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

