ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় পরকীয়া সম্পর্কের জেরে প্রকাশ্যে এক বৃদ্ধকে মারধর এবং তার ছেলের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে ইয়াদ শেখ (৪০) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার (৬ মার্চ) দুপুরে জুমার নামাজ শেষে আলফাডাঙ্গা নূরানী জামে মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার মনোয়ার খান (৬৫) বর্তমানে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মনোয়ার খানের ছেলে মাসুদ পারভেজ (৩৫) দীর্ঘদিন সৌদি আরবে প্রবাসে ছিলেন। এ সময় তার স্ত্রী লিমা খান (২৭) দুই সন্তান নিয়ে গ্রামে বসবাস করতেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময়ের মধ্যে লিমা খানের সঙ্গে ইয়াদ শেখের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে পারিবারিক বিরোধ শুরু হয়। একপর্যায়ে গত বছরের ২৩ অক্টোবর আদালতের মাধ্যমে মাসুদ পারভেজ তার স্ত্রীকে তালাক দেন।
পরিবারের দাবি, চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি মাসুদ পারভেজ দেশে ফেরার পর ইয়াদ শেখ তাকে সাবেক স্ত্রীকে আবার বাড়িতে তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন। এতে তিনি অস্বীকৃতি জানালে বিরোধ আরও তীব্র হয়।
শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে জুমার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় মনোয়ার খানের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। পরিবারের দাবি, ইয়াদ শেখ কয়েকজন সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে প্রকাশ্যে তাকে কিল-ঘুষি মারেন। পরে হামলাকারীরা মাসুদ পারভেজের বাড়িতেও হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
ঘটনার ২৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি প্রকাশ্যে এক বৃদ্ধকে কিল-ঘুষি মারছেন। আশপাশে কয়েকজন যুবক দাঁড়িয়ে থাকলেও তারা বাধা দেননি। পরে একজন এগিয়ে এসে হামলাকারীকে থামানোর চেষ্টা করেন এবং আহত বৃদ্ধকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
অভিযুক্ত ইয়াদ শেখ আলফাডাঙ্গা পৌরসভার কুসুমদি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি নিজেকে উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি দাবি করলেও স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানান, আগের কমিটি বাতিল হওয়ার পর বর্তমানে তার কোনো সাংগঠনিক পদ নেই।
অভিযোগের বিষয়ে ইয়াদ শেখ বলেন, “একটা হালকা মারামারি হয়েছে। এটি পারিবারিক বিষয়, এর বেশি কিছু বলার নেই।”
এদিকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুল মান্নান মিয়া বলেন, ইয়াদ শেখ একসময় উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি ছিলেন। পরে ওই কমিটি বাতিল হওয়ায় বর্তমানে তার কোনো পদ নেই।
আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসনাত খান জানান, পরকীয়া সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মারধরের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানিয়েছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

