মধুখালী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কোরকদি ইউনিয়নের বৈকন্ঠপুর গ্রামে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ইজারাকৃত জমিতে শর্ত ভঙ্গ করে পুকুর খননের অভিযোগ উঠেছে লিজগ্রহীতা ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে। এতে পুকুরের পার ঘেঁষে থাকা বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জলাশয়ে মাছ চাষের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বিভাগের মাধ্যমে ইজারা নেন ওমর ফারুক। তবে ইজারার শর্ত উপেক্ষা করে তিনি গভীর ও খাড়া করে পুকুর খনন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে পুকুরের পাশের ঘরবাড়িগুলো মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই পুকুরের পাড় ধসে ঘরবাড়ি পানিতে পড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা যায়, পুকুরের পার বেশ খাড়া করে খনন করা হয়েছে এবং পাশের বাড়িগুলোর মাটি সরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, নিয়ম অনুযায়ী ঢালু করে পুকুর খননের কথা থাকলেও তা মানা হয়নি। এতে পারের ঘরবাড়ি ও সেখানে বসবাসরত শিশুদের জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকেরা।
পুকুরের পাশের বাড়ির মালিকরা জানান, তারা ইজারাগ্রহীতাকে নিয়ম মেনে পুকুর খননের অনুরোধ করলেও তিনি তা উপেক্ষা করে বাড়ির পাশ ঘেঁষেই খাড়া করে খনন কাজ চালিয়ে যান।
এ বিষয়ে পূর্বের ইজারাগ্রহীতা সেলিনা বেগম জানান, ওমর ফারুককে মাছ চাষের জন্য বর্গা দেওয়া হয়েছিল। পরে তিনি জানতে পারেন, ওমর ফারুক তাকে না জানিয়ে নিজ নামে জলাশয়টির ইজারা নিয়ে পুকুর খনন শুরু করেছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের ইজারাকৃত জমিতে পুকুর খনন ও মাটি বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মো. তাজমিনুর রহমান বলেন, “পুকুর খননের বিষয়টি আমাদের জানা আছে। তাকে সতর্ক করা হয়েছে। তার ইজারা বাতিলের প্রক্রিয়া চলছে। সবকিছু নিয়ম অনুযায়ী করতে কিছুটা সময় লাগবে।”
তিনি আরও জানান, সাধারণত এ ধরনের জমি এক বছরের জন্য ইজারা দেওয়া হয়।
এদিকে স্থানীয়রা দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে ঝুঁকিপূর্ণ পুকুর খনন বন্ধ এবং পারের ঘরবাড়ি রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

