আবিদ হাসান,হরিরামপুর(মানিকগঞ্জ)প্রতিনিধি
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানী সংকটের অজুহাতে অতিরিক্ত দাম বাড়িয়ে হিংস্র হায়না রূপে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি টাকা লুটে নিয়ে মুলধন বাড়িয়ে নিয়েছে ডিলার,পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা, এমনটাই অভিযোগ করেছেন দিনমজুর খেটে খাওয়া শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ। অভিযোগ রয়েছে, লাইসেন্সবিহীন এই অবৈধ ব্যবসায়ীদের অবৈধ মজুদ আর সংকটের দোহাই দিয়ে মহা লুটপাটের অবসান চান সাধারণ মানুষ।
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কাকে কেন্দ্র করে মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে গেছে বেশ কিছু জ্বালানি তেলের দোকান। তার সাথে যোগ হয়েছে অতিরিক্ত দামে সিলিন্ডার গ্যাসের দাম বাড়িয়ে বিক্রির। একই অবস্থা জেলা উপজেলাতেও। এতে বিপাকে পড়েছেন কৃষক,শ্রমিক,ইঞ্জিন চালিত নৌকা মালিক ও সাধারণ ভোক্তারা। আবার কোন কোন বাজারে অতিরিক্ত দাম দিলেই মিলছে ডিজেল,অকটেন, পেট্রোল,সিলিন্ডার গ্যাস। ১৩ কেজির বোতলজাত সিলিন্ডার গ্যাসের দাম ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত রাখা হচ্ছে।
হরিরামপুর একটি কৃষিপ্রধান উপজেলা। এখানকার অধিকাংশ কৃষক সেচের কাজে ডিজেল নির্ভর সেচযন্ত্র ব্যবহার করেন। আর চরাঞ্চলে পারাপারের জন্য ইঞ্জিন চালিত নৌকা ব্যবহার করে থাকে, ফলে হঠাৎ তেলের সংকট দেখা দেওয়ায় কৃষিকাজ আর পদ্মানদী পারাপার নিয়ে অতিরিক্ত খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। তবে হরিরামপুরের বিভিন্ন বাজারে সরেজমিনে দেখা গেছে, অতিরিক্ত দাম দিলেই মিলছে ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল,সিলিন্ডার গ্যাস। ফলে রমজান মাসে ব্যবসায়ীদের এই ব্যবহার কে অনেকেই হিংস্র হায়না আর মহা লুটপাট করে কোটি টাকা লুটে নিয়ে লুটতরাজদের সাথে তুলনা আর মূল ধন বাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ করছেন অনেকেই। আর খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন পাইকারী ব্যবসায়ীরা সংকটের দোহাই আর দাম বেশি নেওয়ায় দাম বৃদ্ধি করতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে গত কয়েকদিনে পাইকার ও খুচরা বিক্রেতারা মিলে কোটি টাকা অবৈধভাবে লুটে নিয়েছে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে। যে কোটি টাকা লুটে নেওয়া হয়েছে, সেগুলো ফেরাবে কে, কারই বা সাধ্য আছে যে ফেরানোর উদ্যোগ নেবে?
বাজার মনিটরিংয়ের দূরাবস্থা আর প্রশাসনের ঢিলেঢালা অভিযানকে দুষছেন অনেকেই।
স্থানীয়রা জানান, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল-আমেরিকা ও ইরানের চলমান উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আর টেলিভিশনের পর্দায় জ্বালানি তেলের সংকট নেই, দাম বাড়বে না বলে ঘোষণার পর থেকেই থেকেই তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার আগেই স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও মজুতদার কৃত্রিম সংকট তৈরি করে তেলের দোকান বন্ধ করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
শুক্রবার ও শনিবার (০৬/৭ মার্চ) সরেজমিনে হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা,চালা, দিয়াবাড়ি,লেছরাগঞ্জ, আন্ধারমানিক,হরিরামপুর উপজেলা, কান্ঠাপাড়া,বলড়াসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই ভোক্তারা তেলের খোঁজে এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘুরছেন। অনেককে খালি গ্যালন/কাতি হাতে ঘুরতে দেখা গেছে। সেই সাথে কিছু বাজারে প্রতি লিটারে ১০ থেকে ২০ টাকা বাড়িয়ে দিলেই মিলছে জ্বালানি তেল।
উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের রাকিব জানান, ঝিটকা বাজারে জয়নাল আর মতির দোকানে মজুদ থাকা সত্ত্বেও তেল দিচ্ছে না। আবার গোপনে অতিরিক্ত দাম দিলেই মিলছে তেল।
ঝিটকা নাজারের মেসার্স ওয়াজিহা ট্রেডার্সের দোকানে তেল নিতে এসে ফিরে যান মোটরসাইকেল চালক সামসুল হক মিলন। তিনি বলেন, গাড়িতে তেল নেই। তেল নিতে এসে দেখি দোকান বন্ধ। এখন কীভাবে চলবো বুঝতে পারছি না।
বাল্লা ইউনিয়নের ভাদিয়াখোলা গ্রামের কৃষক কাশেদ আলী বলেন, ডিজেল নিতে এসেছিলাম। দোকান বন্ধ থাকায় ফিরে যেতে হচ্ছে। ডিজেল ছাড়া সেচ দিতে পারবো না। পানি দিতে না পারলে ধানের চারা নষ্ট হয়ে যাবে।
ঝিটকা এলাকার মেসার্স ওয়াজিহা ট্রেডার্সের মালিক মো. সুজন মিয়া বলেন, আমার দোকানে আধা লিটার তেলও নেই। গতকাল তেলের গাড়ি আসার কথা ছিল, কিন্তু আসেনি। হয়তো রবি বা সোমবারের আগে আর গাড়ি আসবেনা।
এদিকে ভাদিয়াখোলা এলাকার মেসার্স সনিয়া পেট্রোলিয়াম হাউজের মালিক মো. রফিকের দোকান বন্ধ থাকায় তার সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এছাড়াও উপজেলার আন্ধারমানিক,
লেছরাগঞ্জ, কান্ঠাপাড়া,উপজেলা, বলড়া,বলড়ার পাশে একটি পাম্পেও ডিজেল অকটেন পেট্রোল না থাকার অজুহাত আর অতিরিক্ত দাম নেয়ার অভিযোগ আছে।
ভাওয়ারডাঙ্গী গ্রামের সাইফুল জানান, বলড়া পাম্পের পেট্রোল নিতে গেছি, সরাসরি নেই বলে মানা করে দিছে। উপজেলা স্বপনদার কাছ থেকে প্রতি লিটারে ১০ টাকা করে বাড়িয়ে দিছি, সাথে সাথেই দিয়ে দিছে।
দড়িকান্দি শফিক জানান, আমরা আন্ধারমানিক বাজারে ১০ টাকা প্রতি লিটার বাড়িয়ে দিলেই মিলছে তেল।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি করে তেল মজুত করলে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.