হুমায়ন কবির মিরাজ, বেনাপোল
যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া বাজারে প্রকাশ্যেই চলছে নামি-দামি ব্র্যান্ডের নকল চিনিগুঁড়া চাল বিক্রির প্রতারণা। অসাধু ব্যবসায়ীরা নিম্নমানের খোলা চাল কিনে তা দেশের জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের আদলে তৈরি করা মোড়কে ভরে বাজারজাত করছেন। ফলে আসল-নকলের পার্থক্য বুঝতে না পেরে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা।
শনিবারে উপজেলার বাগআঁচড়া বাজারের চিনি পট্টি এলাকার মেসার্স আরিফ স্টোর থেকে জয়নাল নামে এক ক্রেতা এক কেজি প্যাকেটজাত পোলাওয়ের চাল ক্রয় করেন। দোকানদার আরিফ হোসেন তাকে ‘চাষী ভাই’ সুগন্ধি চিনিগুঁড়া নামে একটি চালের প্যাকেট দেন, যার দাম রাখা হয় ১৭০ টাকা।
প্যাকেটটি দেখতে অবিকল স্কয়ার কোম্পানির জনপ্রিয় ‘চাষী’ ব্র্যান্ডের মতো হওয়ায় প্রথমে ক্রেতার সন্দেহ হয়নি। তবে পরে যাচাই করে দেখা যায়, এটি মূল ব্র্যান্ডের নকল করে তৈরি করা একটি ভেজাল পণ্য।
বিষয়টি সাংবাদিকদের জানানো হলে অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা যায়, বাগআঁচড়া বাজারের চিনি পট্টির প্রায় প্রতিটি মুদি দোকানেই ‘চাষী ভাই’ নামে এই চাল বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত চালের পরিবর্তে অধিকাংশ দোকানেই দেখা যায় এই একই নামের চাল।
পরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মেসার্স আরিফ স্টোরের মালিক আরিফ হোসেন বস্তা থেকে খোলা চাল তুলে স্কয়ার কোম্পানির ‘চাষী’ ব্র্যান্ডের আদলে তৈরি করা ‘চাষী ভাই’ নামের প্যাকেটে ভরে প্যাকেটজাত করছেন। পুরো ঘটনাটি ক্যামেরায় ধারণ করা হলে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এভাবে চাল প্যাকেটজাত করে বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।
স্থানীয় একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, বাগআঁচড়া বাজারের চিনি পট্টি বর্তমানে অনেকের কাছেই ‘ইন্ডিয়া পট্টি’ নামে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, ওই এলাকায় বিক্রি হওয়া ভোগ্যপণ্যের একটি বড় অংশ ভারত থেকে চোরাই পথে এনে বাজারজাত করা হয়। আরও অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় বিএনপি নেতা মশিয়ার রহমান ও তার কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী সাপ্তাহিক টাকার বিনিময়ে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যবসায়ীদের ছত্রছায়া দিয়ে আসছেন।
এ বিষয়ে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদ বলেন, অনুমতি ছাড়া খোলা চাল নামি-দামি ব্র্যান্ডের নামে প্যাকেটজাত করে বিক্রি করা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং দণ্ডনীয় অপরাধ। এমন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যশোরের সহকারী পরিচালক সেলিমুজ্জামান বলেন, খোলা চালকে নামি ব্র্যান্ডের নামে প্যাকেটজাত করা স্পষ্ট ভোক্তা প্রতারণা। এ ধরনের অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে চলা এই প্রতারণা বন্ধে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। অন্যথায় সাধারণ ক্রেতাদের ঠকিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.