Nabadhara
ঢাকাশনিবার , ৭ মার্চ ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চিতলমারীতে শহীদ জিয়ার স্মৃতিবিজড়িত নালুয়া–বড়বাড়িয়া খালের বেহাল দশা

শফিকুল ইসলাম সাফা, চিতলমারী
মার্চ ৭, ২০২৬ ৬:৩১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

শফিকুল ইসলাম সাফা, চিতলমারী

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার একসময়ের খরস্রোতা নালুয়া–বড়বাড়িয়া–মচন্দপুর খালটি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজ হাতে খননের মাধ্যমে উদ্বোধন করেছিলেন। খালটি কালের পরিক্রমায় এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। এতে কৃষকদের পানির দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বর্তমান প্রজন্মের কাছে পুরোনো এই স্মৃতি নিঃশেষ হয়ে হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। দ্রুত অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সরকারের কাছে খালটি পুনঃখননের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসী।

প্রত্যক্ষদর্শী বয়োবৃদ্ধ কেরামত আলী খান জানান, ১৯৭৭ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রয়াত শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হেলিকপ্টারযোগে এসে উপজেলার বড়বাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে এক জনসভায় অংশ নেন। এলাকার মানুষের সঙ্গে মিশে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বড়বাড়িয়া বাজারসংলগ্ন নালুয়া–বড়বাড়িয়া–মচন্দপুর খালটি নিজে কোদাল হাতে মাটি কেটে তৎকালীন ইউপি সদস্য আব্দুল মালেক উকিলের মাথায় মাটির ঝুড়ি তুলে দিয়ে খননকাজের উদ্বোধন করেছিলেন।

বেঁচে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীদের অনেকেই সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এই খালটি শুধু একটি জলধারা নয়, এটি উপজেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জীবিকারও অংশ ছিল। কয়েক দশক আগেও বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুমে খালটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। খালটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল এলাকাবাসীর জীবনে। সেই খাল এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। খাল ভরাট ও পানিশূন্যতায় এখন এর অস্তিত্বই সংকটাপন্ন।

সময়ের ব্যবধানে মাটি ভরাট, পলি জমা, কচুরিপানাসহ নানা কারণে খালের স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। খালটির অনেক স্থানে এলাকার স্বার্থান্বেষীরা দোকানপাট নির্মাণ করে দখল করে রেখেছে। তবে খালটি শুকিয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এলাকার কৃষকরা। আগে এই খালের পানি ব্যবহার করে শুষ্ক মৌসুমে ধানসহ নানা কৃষিপণ্য উৎপাদনে সেচের প্রধান উৎস ছিল। বর্তমানে পানিপ্রবাহ না থাকায় কৃষকদের নলকূপের ওপর নির্ভরশীলতা বেড়েছে। ফলে উৎপাদন খরচ কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এলাকার প্রবীণ মুরব্বিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই খালটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের স্মৃতি। সেই সময়ে খাল পুনঃখননের বিশেষ কর্মসূচিতে গুরুত্ব দেওয়া হলে এই খালটি জিয়াউর রহমানের নজরে আসে। তাই ছোট এই জলধারার পুনর্জাগরণকে শুধু পরিবেশগত কারণ নয়, এটিকে ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবেও দেখছেন স্থানীয়রা।

তৎকালীন বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রবীণ রাজনীতিবিদ এফ. এম. ফরহাদ হোসেন জানান, এটি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত একটি স্থান। ১৯৭৭ সালের দিকে তিনি এখানে এসেছিলেন। রাষ্ট্রপতিকে আমি এবং এলাকার প্রবীণ মুরব্বি প্রয়াত ডা. আতিয়ার রহমান মোল্লা হেলিকপ্টার থেকে হাত ধরে নামিয়েছিলাম। পরে তিনি নালুয়া–বড়বাড়িয়া–মচন্দপুর খাল খননের উদ্বোধন করেন। কালের বিবর্তনে দীর্ঘদিন পরিচর্যার অভাবে জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত সেই খালটি এখন ভরাট হয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ করব, চিতলমারীতে জিয়াউর রহমানের স্মৃতি ধরে রাখতে নালুয়া–বড়বাড়িয়া খালটি পুনঃখনন করা হোক। তাহলে আমরা গর্ব করে বলতে পারব, এখানে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিজ হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে এই খালটির উদ্বোধন করেছিলেন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।