সাইফুল ইসলাম, বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের আগাম তৎপরতা শুরু হয়েছে।
যদিও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে এখনো সময় রয়েছে, তবুও সম্ভাব্য প্রার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন উপায়ে নিজেদের প্রার্থিতার ইঙ্গিত দিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন।
স্থানীয় সূত্র ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, কেদারপুর ইউনিয়নে অন্তত ৬
সম্ভাব্য প্রার্থী ইতোমধ্যে নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে তারা ইউনিয়নবাসীকে অগ্রিম শুভেচ্ছা জানিয়ে নিজেদের পরিচিতি বাড়ানোর প্রচারণা চালাচ্ছেন।
সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন কেদারপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. কামাল হাওলাদার। তিনি ইউনিয়নের পূর্ব ভূতেরদিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং খালেক হাওলাদারের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে।
এছাড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও কেদারপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা, সাবেক ইউপি সদস্য মো. কুদ্দুস মোল্লাও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন।
তরুণ সমাজসেবক হিসেবে পরিচিত কেদারপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আনিসুল ইসলাম (পলাশ মিয়া)ও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তিনি ভূতেরদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক আ. আউয়াল মিয়ার ছেলে এবং ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য ভূতেরদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়নের বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন এবং তরুণদের উন্নয়নে কাজ করছেন।
অন্যদিকে কেদারপুর ইউনিয়নের বিএনপি নেতা, সমাজসেবক ও সাবেক সেনা সদস্য হাসানুজ্জামান (আর্মি খোকন)ও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। তিনি ইউনিয়নের বিভিন্ন সমস্যা, জনদুর্ভোগ নিরসন এবং ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট সংস্কারে স্থানীয়ভাবে ভূমিকা রাখছেন বলে এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে।
এছাড়া বাবুগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান টুলুও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। তিনি কেদারপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং আব্দুল লতিফ আকনের(লতিফ মুহুরীর) ছেলে।
একইভাবে বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য ও কেদারপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা পারভেজ মৃধাও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নিজের অবস্থান জানান দিয়েছেন।
এদিকে জাতীয় পার্টির অঙ্গসংগঠন যুব সংহতির বাবুগঞ্জ উপজেলা সাধারণ সম্পাদক সোহেল হাওলাদারও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন শুভেচ্ছা বার্তা, পোস্ট ও প্রচারণার মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইউনিয়নবাসীর কাছে নিজেদের পরিচিত করে তোলার চেষ্টা করছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলোচনায় থাকা প্রার্থীদের বেশিরভাগই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।
এ বিষয়ে স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সম্ভাব্য প্রার্থীদের কেউ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সক্রিয় থাকলেও আবার কেউ নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বেশি তৎপর হয়ে উঠেছেন।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য পরিবেশে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে ভোটারদের রায়ই হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
কেদারপুর ইউনিয়নের অনেক ভোটারই জানান, তারা আগামী নির্বাচনে শিক্ষিত, সৎ ও জনবান্ধব ব্যক্তিকেই চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান, যাতে ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.