নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার বীরজোয়ান উচ্চ বিদ্যালয়ে জাল সনদে শিক্ষকতা করেছেন দুই শিক্ষক। এনটিআরসিএ এর যাচাইয়ে সহকারী শিক্ষক কামরুজ্জামান ও বাবুল আকতারের সনদ জাল প্রমাণিত হয়েছে।
এরপরও প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) জোনাব আলীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় জাল শিক্ষক নিবন্ধন সনদ ব্যবহার করে এখন পর্যন্ত সরকারি কোষাগার থেকে বেতন-ভাতাদি উত্তোলন করে যাচ্ছেন তারা।
এবিষয়ে দেশের বেশকিছু পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলেও কোন পদক্ষেপ নেননি প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) জোনাব আলী।
জানা যায়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের শিক্ষক বাবুল আকতার ২০১১ খ্রিষ্টাব্দের ৫ ডিসেম্বর জাল শিক্ষক নিবন্ধন সনদ দিয়ে নিয়োগ নিয়ে ৫ ডিসেম্বর যোগদান করেন এবং জীববিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক কামরুজ্জামান জাল শিক্ষক নিবন্ধন সনদ ব্যবহার করে ২০০৮ খ্রিস্টাব্দের ৩০ এপ্রিল নিয়োগ পেয়ে ৫ মে জাল সনদে যোগদান করেন। এরপর থেকে তারা অবৈধভাবে সরকারি সরকারি কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলন করে ভোগ করে আসছেন।
গত ২০২৫ খ্রিস্টাব্দের ১৩ অক্টোবর এনটিআরসির সহকারী পরিচালক সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০০৬ খ্রিষ্টাব্দের দ্বিতীয় শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার রোল ১১২২০০৫৪ নম্বরধারী বাবুল আকতার চৌধুরী ও রোল ৪২৬১৩২৭ নম্বরধারী কামরুজ্জামান মন্ডলের দাখিল করা প্রত্যয়নপত্রের সাথে অফিস সংরক্ষিত ফলাফলের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। উভয় শিক্ষক জাল-জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এরপরও তাদের বেতন-ভাতা চালু রাখেন প্রতিষ্ঠান প্রধান (ভারপ্রাপ্ত) জোনাব আলী। এ ঘটনায় স্থানীয় এক ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশের প্রেক্ষিতে প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) জোনাব আলীর বিরুদ্ধে বুধবার বিকেলে ওই বিদ্যালয়ে তদন্তে যান জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. শাহাদাৎ হোসেন। তদন্তে প্রাথমিকভাবে ওই অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহাদাৎ হোসেন।
বীরজোয়ান উচ্চ বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জনাব আলী বলেন, আজ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা স্যার এসেছিলেন। এরপর তিনি সব কাগজপত্র নিয়ে গেছেন।
নওগাঁ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন বলেন, জাতীয় শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) কর্তৃক সরবরাহকৃত সনদ ও সুপারিশপত্র জাল ও ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে। তাদের বেতন-ভাতাদি এখনো প্রতিষ্ঠান প্রধান চালু রেখেছে সেটা প্রাথমিক ভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুতই মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রেরণ করা হবে।

