শামসুল হক ভূঁইয়া, গাজীপুর
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কাশিমপুরের ধনঞ্জয়খালী এলাকায় নির্মাণাধীন একটি সড়ক উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
সোমবার প্রতিমন্ত্রী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সড়কের নির্মাণমান, ব্যবহৃত উপকরণ ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। প্রাথমিক তদন্তে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং প্রাকৃতিক কারণের প্রভাবের তথ্য উঠে এসেছে বলে তিনি জানান।
এ ঘটনায় প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ এবং প্রকৌশলী শামসুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী বরখাস্ত সংক্রান্ত চিঠি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকারের কাছে হস্তান্তর করেন।
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, “উদ্বোধনের আগেই একটি সড়ক ধসে পড়া অত্যন্ত দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য। নির্মাণ কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বা গাফিলতি বরদাশত করা হবে না।” তিনি আরও জানান, পূর্বে গঠিত সব তদন্ত কমিটি বাতিল করে সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের নতুন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত প্রকৌশলীরা নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ বলেন, নির্ধারিত মান বজায় রেখেই কাজ বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়েছে, তবে প্রাকৃতিক কারণ ও স্থানীয় ভূপ্রকৃতির প্রভাবও থাকতে পারে। অন্যদিকে প্রকৌশলী শামসুর রহমান দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি ওই স্থানে দায়িত্বে ছিলেন না এবং এটি প্রাকৃতিক কারণে ঘটেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ধসে পড়া অংশ ছাড়াও আশপাশের এলাকাতেও মাটি দেবে যাওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, যা পুরো এলাকার ভূপ্রকৃতি ও মাটির ধারণক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। কিছু কুসংস্কারভিত্তিক গুঞ্জন ছড়ালেও সচেতন মহল প্রকৌশলগত ত্রুটিকেই মূল কারণ হিসেবে দেখছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনা শুধু একটি সড়ক ধস নয়, বরং উন্নয়ন প্রকল্পে তদারকি, মাননিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহিতার বড় ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়। তারা বলছেন, প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং জোরদার না করলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.