মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় দীর্ঘ প্রায় ৩৮ বছর ধরে ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে হযরত মাওলানা মুফতি মো. নূরুল ইসলাম (৬৫)-কে ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজনে রাজকীয় বিদায় জানিয়েছেন স্থানীয় মুসল্লিরা। তাকে সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে করে শোভাযাত্রার মাধ্যমে বিদায় জানানো হয়।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে উপজেলার গাওদিয়া ইউনিয়নের পালগাঁও মধ্যপাড়া গ্রামে এ বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। পালগাঁও কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হওয়া এ শোভাযাত্রা মাওয়া পর্যন্ত গড়ে ওঠে এক আবেগঘন পরিবেশ।
স্থানীয়ের তথ্য সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৮ সালে তরুণ বয়সে পালগাঁও কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ইমাম হিসেবে যোগ দেন মাওলানা মুফতি নূরুল ইসলাম। এরপর টানা প্রায় চার দশক নিষ্ঠা ও সুনামের সঙ্গে ইমামতি ও খতিবের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বয়সজনিত কারণে ২০২৬ সালে তিনি অবসরে যান।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি হাজী মো. গিয়াস উদ্দিনের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন মসজিদের মোতাওয়াল্লি মো. মঞ্জরুল হক পাঠান, সাধারণ সম্পাদক মো. আদম আলী শিকদারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও মুসল্লিরা।
বক্তারা তার দীর্ঘদিনের ধর্মীয় সেবা, সততা ও এলাকার মানুষের মাঝে কুরআনের শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়ার অবদানের কথা তুলে ধরেন।
বিদায়ী বক্তব্যে আবেগাপ্লুত মাওলানা নূরুল ইসলাম বলেন, “আমি সারাজীবন দ্বীনের খেদমতে নিজেকে নিয়োজিত রাখার চেষ্টা করেছি। এলাকার মানুষকে কুরআনের আলোয় আলোকিত করতে পেরেছি—এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আমার কোনো ভুল-ত্রুটি হয়ে থাকলে সবাই ক্ষমা করে দেবেন।”
অনুষ্ঠান শেষে তার হাতে সম্মাননা স্মারক ও নগদ ৫ লাখ টাকা তুলে দেওয়া হয়। পরে সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে করে তাকে প্রায় ২০ কিলোমিটার পথ শোভাযাত্রার মাধ্যমে লৌহজংয়ের মাওয়া পদ্মা সেতু টোলপ্লাজা পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হয়।
এ সময় মোটরসাইকেল ও বিভিন্ন যানবাহনের বহরে গ্রামের শত শত মানুষ তাকে বিদায় জানাতে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মসদগাও মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মাওলানা মোহাম্মদ মকবুল হোসেন, নয়াবাড়ি মসজিদের ইমামসহ পালগাঁও এলাকার বিভিন্ন মসজিদের ইমাম ও সর্বস্তরের মুসল্লিরা।
এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন এলাকায় বিরল এবং এটি একজন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

