যশোর প্রতিনিধি
সারাদেশ যখন ঈদের আনন্দে মেতে ওঠে, পরিবার-পরিজনের সঙ্গে উৎসবের মুহূর্ত কাটায়, তখনও যশোর শহরের রাজপথে নিরলস ছুটে চলেন অ্যাম্বুলেন্স চালকরা। সাইরেন বাজিয়ে জীবন বাঁচানোর এই যাত্রাই তাদের কাছে ঈদ উদযাপনের আরেক নাম।
ঈদের দিনে যখন ঘরে ঘরে সেমাই-পোলাওয়ের আয়োজন, প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটানোর ব্যস্ততা, ঠিক তখনই জরুরি রোগী নিয়ে হাসপাতালের পথে ছুটে চলেন এসব চালক। তাদের কাছে ঈদ মানে ছুটি নয়, বরং দায়িত্ব আর মানবসেবার এক অনন্য প্রতিশ্রুতি।
যশোর জেলা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলায় সরকারি, বেসরকারি ক্লিনিক, ফার্মাসিটিক্যাল ও ব্যক্তি মালিকানাধীন মিলিয়ে প্রায় ৭৫টি অ্যাম্বুলেন্স নিয়মিত সেবা দিচ্ছে। ঈদের সময় এই সেবার চাহিদা বেড়ে যায় কয়েকগুণ, ফলে চালকদের ব্যস্ততাও বৃদ্ধি পায়।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালক সাকাওয়াত হোসেন বলেন, “গত দশ বছর ধরে ঠিকমতো ঈদের নামাজও পড়তে পারিনি। নামাজের প্রস্তুতি নিলেই ফোন আসে। নতুন পাঞ্জাবি পরে ঈদ করার সুযোগ হয় না, স্টিয়ারিং ধরেই কেটে যায় পুরো দিন।”
সাবেক অ্যাম্বুলেন্স চালক মোশারফ হোসেন জানান, “পরিবারের সঙ্গে ঈদ করা হয় না বললেই চলে। সন্তানদের নতুন জামা কিনে দিলেও তাদের নিয়ে ঈদগাহে যেতে পারি না। অনেক সময় ফোনেই তাদের ঈদের শুভেচ্ছা জানাতে হয়।”
তবে এই ত্যাগের মাঝেও এক ধরনের তৃপ্তি খুঁজে পান তারা। কোনো মুমূর্ষু রোগীকে সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছে দিয়ে যখন সুস্থ হয়ে উঠতে দেখেন, তখন সেই আনন্দই তাদের কাছে ঈদের প্রকৃত সুখ হয়ে ওঠে।
অ্যাম্বুলেন্স চালকদের অভিযোগ, জরুরি সময়ে অনেক ক্ষেত্রেই তারা ট্রাফিক জ্যাম বা পথচারীদের অসচেতনতার কারণে বাধার সম্মুখীন হন। তারা সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন—সাইরেন শুনলেই যেন সবাই দ্রুত রাস্তা ছেড়ে দেন, যাতে একটি জীবন বাঁচানোর সুযোগ তৈরি হয়।
মানবসেবার এই নীরব যোদ্ধারা প্রমাণ করে দিচ্ছেন—অন্যের জীবন রক্ষা করাই তাদের কাছে সবচেয়ে বড় উৎসব।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.