যশোর প্রতিনিধি
ঈদের ছুটি শেষ হতে না হতেই যশোরে আবারও জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। টাকা থাকলেও অধিকাংশ পাম্পে মিলছে না তেল। জেলার বেশিরভাগ পাম্পে তেল না থাকায় ক্রেতাদের পাম্পে পাম্পে ঘুরতে হচ্ছে, এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
জানা গেছে, শহরের হাতেগোনা দুই-একটি পাম্পে অকটেন ও ডিজেল পাওয়া গেলেও পেট্রোল প্রায় অপ্রাপ্য। ফলে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা বিপাকে পড়েছেন।
মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জের বাসিন্দা আবুল হোসেন জানান, মোটরসাইকেলে প্রয়োজনীয় কাজে শহরে এসে তিনি চরম সমস্যায় পড়েন। রিজার্ভের তেল দিয়ে আকিজ পাম্প, আইয়ুব আলী পাম্প, ইউনিক ও সোনালী পাম্পসহ বিভিন্ন স্থানে ঘুরেও পেট্রোল পাননি। শেষ পর্যন্ত খাজুরা বাসস্ট্যান্ড এলাকার প্রান্তি পাম্পে সামান্য তেলের আশায় যান। তিনি বলেন, “সরকার মুখে আশ্বস্ত না করে বাস্তবে তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করুক, যেন আমরা এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাই।”
একই অভিজ্ঞতার কথা জানান ক্যান্টনমেন্ট এলাকার মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, মণিহার ও গাড়িখানা রোডের তোফাজ্জেল পাম্পসহ বিভিন্ন স্থানে ঘুরেও তেল পাননি। “পাম্পগুলো শুধু বন্ধই নয়, কেন তেল নেই তা জানানোর মতো কাউকেও পাওয়া যাচ্ছে না। সরকার বলছে পর্যাপ্ত মজুত আছে, কিন্তু পাম্পে এলে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না,”—যোগ করেন তিনি।
শহরের পুরাতন কসবা এলাকার এক যুবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সকাল থেকে ঘুরেও তেল পাচ্ছি না। মনে হচ্ছে মোটরসাইকেল রেখে হেঁটে চলাফেরা করতে হবে। নতুন সরকারের আশ্বাসের পরও ভোগান্তি কমছে না।”
এ বিষয়ে জ্বালানি তেল পাম্প মালিক সমিতির সদস্য ও মেসার্স প্রান্তি পেট্রোলিয়ামের স্বত্বাধিকারী রিমনুজ্জামান জানান, বর্তমানে কোটা পদ্ধতিতে ডিপো থেকে সীমিত পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। “আজ শুধু অকটেন পেয়েছি, সেটিই গ্রাহকদের দিচ্ছি। আশা করছি আগামীকাল পেট্রোল পাওয়া যাবে,”—বলেন তিনি।
তিনি আরও জানান, ঈদের ছুটির পর ব্যাংক খোলায় মালিকরা পে-অর্ডার জমা দিচ্ছেন। তেল সরবরাহ প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হলে দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.