নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
গাজীপুর মেট্রোপলিটনের গাছা থানা পুলিশের বিরুদ্ধে ছেলেকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়া, মিথ্যা মামলায় জড়ানো এবং অর্থ দাবির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক নারী।
শনিবার দুপুরে গাছা থানার বোর্ড বাজার দক্ষিণ কলমেশর এলাকার নিজ বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ফরিদা ইয়াসমিন এসব অভিযোগ করেন। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা।
লিখিত বক্তব্যে ফরিদা ইয়াসমিন জানান, গত ১২ মার্চ গাছা থানা পুলিশ তার ছেলে রাহুল খানকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে ছেলের খোঁজ নিতে পুলিশের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তারা নানা অজুহাতে এড়িয়ে যায় এবং মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি দাবি করেন, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ছেলেকে একটি ডাকাতি মামলায় জড়ানো হয়। অথচ ওই মামলার প্রকৃত আসামিদের পুলিশ আগেই গ্রেপ্তার করেছিল। তার ভাষ্য, তার ছেলে ওই ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নয়।
ফরিদা ইয়াসমিন আরও বলেন, একই ঘটনায় আরও তিনজনকে আটক করা হয়েছিল এবং তাদের কাছ থেকে একটি পিসি উদ্ধারের কথা বলা হয়। তবে তার ছেলে ওই ডাকাতি মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় বলেও তিনি দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় এক বিএনপি নেতার প্রভাবের কারণে তাদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে চাপের মধ্যে রয়েছে। প্রায় ২০ বছর ধরে তাদের সঙ্গে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলমান বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এছাড়া গত ১৪ মার্চ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ছবি বিকৃত করে অপপ্রচার চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় তিনি গাজীপুর আদালতে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা দায়ের করেছেন বলে জানান।
বর্তমানে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন উল্লেখ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনের শেষে তিনি বলেন, “আমি আমার পরিবারের নিরাপত্তা এবং আমার ছেলের মুক্তির জন্য প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার চাই।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত স্থানীয় বিএনপি নেতা মুঠোফোনে বলেন, তিনি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং এ বিষয়ে কিছু জানেন না। তিনি আরও জানান, তিনিও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন, তবে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
এ বিষয়ে গাছা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. এরশাদুর রহমান বলেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, রাহুল খানের বিরুদ্ধে এই মামলাসহ আরও সাতটি মামলার তথ্য পুলিশের কাছে রয়েছে। তবে পুলিশ বা কোনো নেতার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.