রাজশাহী প্রতিনিধি
নর্দান ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) পিএলসির প্রিপেইড মিটার স্থাপন ও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আদায়ের প্রতিবাদে রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন ভুক্তভোগী মানুষ।
শনিবার সকাল ১০টায় উপজেলা সদর ডাইংপাড়া মোড়ে মাথায় কাফনের কাপড় বেধে তারা এই মানববন্ধনে অংশ নেন। গোদাগাড়ী নাগরিক স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটি এ আয়োজন করে।
মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়ে তাদের ক্ষোভ, দুর্ভোগ ও আর্থিক চাপের চিত্র তুলে ধরেন। প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে তারা হাতে হাতে প্ল্যাকার্ড নেন। এতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আকুল আবেদন জানিয়ে লেখা ছিল- ‘আমাদের ন্যায্য দাবি মেনে নিন; নয়তো আমাদের হত্যা করে বঙ্গোপসাগরে ভাসিয়ে দিন।’
বক্তারা অভিযোগ করেন, নেসকো কোনো ধরনের সম্মতি ছাড়াই জোরপূর্বক প্রিপেইড মিটার স্থাপন করছে। এর ফলে গ্রাহকদের কাছ থেকে অস্বাভাবিক ও অনেক ক্ষেত্রে তিনগুণ পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিল আদায় করা হচ্ছে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, আগে যেখানে স্বাভাবিক হারে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা সম্ভব ছিল, এখন প্রিপেইড মিটার ব্যবস্থায় কয়েকগুণ বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। অনেক পরিবার প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহার থেকেও বিরত থাকতে বাধ্য হচ্ছে, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। বক্তারা এই পরিস্থিতিকে এক ধরনের আর্থিক নির্যাতন বলে উল্লেখ করেন
মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে প্রিপেইড মিটার স্থাপন কার্যক্রম বন্ধ, অতিরিক্ত বিল প্রত্যাহার এবং গ্রাহকবান্ধব বিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালুর দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করে বক্তারা বলেন, সাধারণ মানুষের ন্যায্য দাবি দ্রুত মেনে নেওয়া না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।
গোদাগাড়ী নাগরিক স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট সালাহ উদ্দীন বিশ্বাস এতে সভাপতিত্ব করেন। অনান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন- কমিটির সহ-সভাপতি অধ্যাপক মজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক বরজাহান আলী পিন্টু, নাগরিক কমিটির সভাপতি শান্ত কুমার মজুমদার, গোদাগাড়ী যুবদলের আহ্বায়ক ও সাবেক কাউন্সিলর মাহবুবর রহমান বিপ্লব, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর শহিদুল ইসলাম, সমাজ ও মানবকল্যাণ সংস্থার মহাসচিব নুরে আলম ওয়াহিদ, প্রতিবন্ধী অধিকার উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি নজরুল ইসলামসহ প্রমুখ।

