Nabadhara
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২ এপ্রিল ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কালাইয়ে কৃষকের নামে ভুয়া ঋণ তুলে আত্মসাতের অভিযোগ, শতাধিক পরিবারে চরম উৎকণ্ঠা

জয়পুরহাট প্রতিনিধি 
এপ্রিল ২, ২০২৬ ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

জয়পুরহাট প্রতিনিধি 

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় অগ্রণী ব্যাংকের একটি শাখা থেকে কৃষকদের নামে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে ঋণ তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঋণ না নিয়েও শতাধিক কৃষক ও তাদের পরিবার হঠাৎ করেই ঋণখেলাপির ‘লাল নোটিশ’ পেয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

ভুক্তভোগীরা জানান, তারা কখনো ব্যাংক থেকে ঋণ নেননি, এমনকি অনেকেই ব্যাংকের অবস্থান পর্যন্ত জানেন না। অথচ তাদের নামে ২০১৬-২০১৭ সালে কৃষিঋণ অনুমোদন দেখিয়ে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। বর্তমানে সেই ঋণের সুদ-আসলসহ পরিশোধের জন্য নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

কালাই পৌরসভার আঁওড়া মহল্লার নুর আলম মন্ডল বলেন, “আমি কোনোদিন ব্যাংকে যাইনি। অথচ আমার নামে ঋণখেলাপির নোটিশ এসেছে। জমিজমাও নেই, তারপরও কীভাবে ঋণ হলো বুঝতে পারছি না।”

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তৎকালীন শাখা ব্যবস্থাপক দালালদের মাধ্যমে এলাকার মানুষের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি ও ছবি সংগ্রহ করে ভুয়া জমির কাগজপত্র তৈরি করেন এবং তাদের অজান্তেই কোটি টাকার ঋণ তুলে আত্মসাত করেন।

এ ঘটনায় আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো—২০ বছর আগে মৃত ব্যক্তিদের নামেও ঋণ দেখানো হয়েছে। আঁওড়া মহল্লার মৃত আব্দুর রাজ্জাক মোল্ল্যার নামে ২০১৬ সালে ৫০ হাজার টাকা ঋণ দেখানো হয়েছে, যা বর্তমানে সুদসহ প্রায় ৯৯ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে।

তার ছেলে সোহেল মোল্ল্যা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার বাবা ১৫ বছর আগে মারা গেছেন। তাহলে কি তিনি কবর থেকে উঠে ঋণ নিয়েছেন?”

একই ধরনের অভিযোগ হারুঞ্জা গ্রামের মৃত খলিলুর রহমানের পরিবারসহ আরও অনেকের। অনেকেই দাবি করেছেন, তারা কখনো ব্যাংকের কোনো কাগজে স্বাক্ষর করেননি।

স্থানীয় দালাল আব্দুস সামাদ স্বীকার করেন, তিনি এলাকার বহু মানুষের আইডি কার্ডের কপি ও ছবি সংগ্রহ করে ব্যাংক ব্যবস্থাপকের কাছে দিতেন। “প্রতিটি আইডির জন্য আমাকে ২ হাজার টাকা দেওয়া হতো,” বলেন তিনি।

এদিকে তৎকালীন এক ফিল্ড সুপারভাইজার জানান, শাখা ব্যবস্থাপক চাকরিচ্যুতির ভয় দেখিয়ে তাদের দিয়ে এসব কাগজপত্রে স্বাক্ষর করিয়েছেন।

বর্তমান শাখা ব্যবস্থাপক সাব্বির আহমেদ বলেন, “বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে দেখছি। প্রাথমিকভাবে কিছু জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্ত চলছে।”

অগ্রণী ব্যাংকের জয়পুরহাট আঞ্চলিক মহাব্যবস্থাপক মো. জুলফিকার আলী জানান, তদন্ত শেষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সাবেক ব্যবস্থাপকের অবসরকালীন সুবিধা স্থগিত করা হয়েছে।

তবে অভিযুক্ত সাবেক ব্যবস্থাপক নূরুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এত আগের বিষয় মনে নেই।”

এ ঘটনায় দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। পাশাপাশি তাদের নামে জালিয়াতির মাধ্যমে নেওয়া ঋণ বাতিলেরও দাবি উঠেছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।