Nabadhara
ঢাকাশনিবার , ৪ এপ্রিল ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গাকৃবিতে স্বল্পমেয়াদী ও উচ্চ ফলনশীল চিকন ধানের জাত ‘জিএইউ ধান-৪’ উদ্ভাবন

নিজস্ব প্রতিবেদক,গাজীপুর
এপ্রিল ৪, ২০২৬ ১:২৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক,গাজীপুর

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গাকৃবি) কৃষিতত্ত্ব বিভাগের দুই বিশিষ্ট গবেষক প্রফেসর ড. এম. ময়নুল হক ও প্রফেসর ড. মোঃ মসিউল ইসলামের নেতৃত্বে দীর্ঘ এক দশকের গবেষণায় উদ্ভাবিত হয়েছে স্বল্পমেয়াদী, উচ্চ ফলনশীল ও চিকন আউশ ধানের নতুন জাত ‘জিএইউ ধান-৪’।

নতুন এ জাত উদ্ভাবনের মাধ্যমে গাকৃবির উদ্ভাবিত ধানের জাতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪টি এবং মোট ফসলের জাতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯৫টি। সংশ্লিষ্টরা এটিকে দেশের কৃষি গবেষণা ও খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন।

বাংলাদেশে আউশ ধানের ফলন সাধারণত আমন ও বোরো মৌসুমের তুলনায় কম হলেও ‘জিএইউ ধান-৪’ এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। এটি স্বল্প সময়ে পরিপক্ব হওয়ায় কৃষকরা দ্রুত জমি খালি করে একই জমিতে বছরে ৩ থেকে ৪টি ফসল উৎপাদনের সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের মঙ্গাপীড়িত এলাকায় এটি নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারে।

গবেষকরা জানান, চিকন চালের ক্রমবর্ধমান চাহিদা বিবেচনায় রেখে প্রচলিত আউশ জাত ‘পারিজা’ এবং উচ্চ ফলনশীল চিকন জাত ‘বিইউ ধান-২’ এর সংকরায়নের মাধ্যমে এ জাতটি উদ্ভাবন করা হয়। দীর্ঘ গবেষণা ও নির্বাচনের মাধ্যমে ‘জিএইউ-৯৯৭৪-৫২-৭-২’ লাইনটি কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করে।

পরবর্তীতে ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে আঞ্চলিক অভিযোজন ও মাঠ পর্যায়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় বীজ বোর্ডের ১১৫তম সভায় ‘জিএইউ ধান-৪’ জাতটি আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পায়।

পুষ্টিগুণের দিক থেকেও এ ধান সমৃদ্ধ। এতে প্রায় ২৪.৫৮ শতাংশ অ্যামাইলেজ এবং ৮.৩৮ শতাংশ প্রোটিন রয়েছে, যা মানবদেহের শক্তি জোগানো ও গঠন প্রক্রিয়ায় সহায়ক। এ জাতের ধান বপনের ৩ মাস থেকে ৩ মাস ১০ দিনের মধ্যেই সংগ্রহ করা যায়। অনুকূল পরিবেশে হেক্টরপ্রতি ৫ থেকে ৫.৫ টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব।

এছাড়া রোগবালাই প্রতিরোধ ক্ষমতা ও জলবায়ু সহনশীলতার কারণে এটি সাধারণ জাতের তুলনায় ১০-১৫ শতাংশ বেশি ফলন দিতে সক্ষম। বেলে দো-আঁশ ও এটেল দো-আঁশ মাটি এ চাষের জন্য উপযোগী। প্রতি হেক্টরে ২৫-৩০ কেজি বীজ প্রয়োজন হয়।

এ বিষয়ে উদ্ভাবক প্রফেসর ড. মোঃ মসিউল ইসলাম বলেন, “স্বল্প সময়ে বেশি ফলন ও বাজারযোগ্য চিকন চাল নিশ্চিত করাই ছিল আমাদের লক্ষ্য। ‘জিএইউ ধান-৪’ কৃষকের আয় বৃদ্ধি ও দেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান গবেষকদ্বয়কে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “এই উদ্ভাবন আমাদের গবেষকদের মেধা ও নিষ্ঠার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এটি ভবিষ্যতে দেশের কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।”

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।