শফিকুল ইসলাম সাফা, চিতলমারী
বাগেরহাটের চিতলমারীতে হঠাৎ করে ফসলে পাতাপোড়া রোগ দেখা দেওয়ায় চাষিদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে।
স্থানীয় চাষি ও কৃষি অফিসের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে এলাকায় ১২ হাজার ১৫৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড জাত রয়েছে ১২ হাজার ১১৭ হেক্টর এবং দেশীয় উফশী জাত রয়েছে ৩৮ হেক্টর।
এলাকায় চিংড়ি চাষের কারণে অধিকাংশ ঘেরের জমিতে এসব জাতের বোরো ধানের চাষ হয়েছে। কৃষিপ্রধান এ অঞ্চলের চাষিরা সবসময়ই আগাম ফসল চাষাবাদে তৎপর থাকেন। চিংড়ি ঘেরের পাড়ে শশা, করোলা, টমেটো চাষের পাশাপাশি জমিতে বছরে একবার বোরো ফসল চাষ করা হয়। এতে চাষিদের বছরের খাদ্য চাহিদা পূরণ হয়। কিন্তু এ বছর হঠাৎ ঝড়ো বাতাসে ধানে পাতাপোড়া রোগ দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি ইঁদুরের উপদ্রব ও আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবে তারা ফসল ঘরে তুলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
উপজেলার শ্যামপাড়া গ্রামের বোরোচাষি নির্মল মণ্ডল জানান, তার জমিতে ব্যাপকভাবে পাতাপোড়া রোগ দেখা দিয়েছে। এছাড়া একই এলাকার চাষি মাধব বৈরাগী, অসীম মণ্ডল, শুদ্ধাংশু মণ্ডলসহ অনেকের জমিতে এ রোগ দেখা দিয়েছে, তবে এর প্রতিকার তারা করতে পারছেন না বলে জানান তিনি।
উপজেলার দুর্গাপুর এলাকার চাষি প্রতুল হালদার জানান, কয়েকদিন আগে ঝড়ো বাতাস বয়ে গেছে। সেই বাতাসের কারণেই এ ধরনের পাতাপোড়া রোগের সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি ধারণা করছেন। এছাড়া উমাজুড়ি গ্রামের বোরোচাষি অপূর্ব হীরা জানান, তাদের মাঠের অধিকাংশ বড় চিংড়ি ঘেরের জমির ফসলের পাতা পুড়ে গেছে। এতে ধানে চিটা হওয়ার পাশাপাশি ফলন ঘাটতির সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি আশঙ্কা করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সিফাত-আল-মারুফ জানান, কয়েকদিন আগে ঝড়ো বাতাসের কারণে এমনটি হয়েছে। জমিতে পটাশ সার ব্যবহার করলে এটি দূর করা সম্ভব। এছাড়া এই পাতাপোড়া রোগে ফলনে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি হবে না বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আরও জানান, তিনি ও তার উপসহকারীরা সরেজমিনে মাঠ পরিদর্শন করে কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.