রাসেল আহমেদ, খুলনা প্রতিনিধি
খুলনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সদস্যপদে ভুয়া ও অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের অন্তর্ভুক্তির অভিযোগে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ব্যবসায়ী মহলে।
যাচাই-বাছাই শেষ না করেই নির্বাচনী তপশিল ঘোষণার প্রস্তুতি নেওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন একাংশের ব্যবসায়ীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চেম্বারের সদস্য হতে গত ৯ মাসে ১ হাজার ৭০টি নতুন আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের ঠিকানায় গিয়ে বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা সম্প্রতি ১২৫টি আবেদন যাচাই-বাছাই করেন। এতে ৯০টি প্রতিষ্ঠানই অস্তিত্বহীন বলে প্রমাণিত হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সদস্যপদ বাতিলের প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে যাচাই না করেই গত ৩১ মার্চ নির্বাচন বোর্ড ও আপিল বোর্ড গঠন করা হয়েছে, যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীদের একটি অংশ। তাদের দাবি, বাকি আবেদনগুলো যাচাই ছাড়া নির্বাচন হলে তা গ্রহণযোগ্যতা হারাবে।
অভিযোগ রয়েছে, দিঘলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ট্রেড লাইসেন্স ব্যবহার করে ‘মেসার্স নর্থ খুলনা ট্রেডিং’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান ২০২৫ সালের ২ ডিসেম্বর সদস্যপদের জন্য আবেদন করে। কিন্তু উল্লেখিত ঠিকানায় গিয়ে কোনো প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
একইভাবে খুলনা সিটি করপোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স ব্যবহার করে ‘মেসার্স আর এম ট্রেডার্স’ নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান আবেদন করে ২০২৫ সালের ৩ জুলাই। নগরীর বয়রা শ্মশানঘাট এলাকায় দেওয়া ঠিকানায় গিয়ে শুধু একটি ভাঙা বসতঘর পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, বর্তমানে চেম্বারে সাধারণ শ্রেণিতে ১ হাজার ৮৪ জন এবং সহযোগী শ্রেণিতে ২৭৮ জন সদস্য নবায়ন রয়েছে। নতুন আবেদন যাচাইয়ের দাবিতে ব্যবসায়ীদের একটি অংশ একাধিকবার তালিকা জমা দেন। তারা প্রথম দফায় ৬৭টি এবং পরে ৫৮টি ভুয়া প্রতিষ্ঠানের তালিকা দেন। এছাড়া আরও প্রায় ৪০০ প্রতিষ্ঠান ভুয়া বলে অভিযোগ করেন।
খুলনা চেম্বারের সাবেক পরিচালক ও জনতা বিস্কুট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম খালিদ হোসেন বলেন, এখনও প্রায় ৯৫০টি আবেদন যাচাই করা বাকি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভুয়া ভোটার রয়েছে। যাচাই ছাড়া তপশিল ঘোষণা করা হলে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না।
চেম্বারের প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিতান কুমার মণ্ডল বলেন, ব্যবসায়ীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ১২৫টি আবেদন যাচাই করা হয়েছে এবং অনেক প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। যাচাই শেষে সেগুলো বাতিল করা হবে।
তিনি আরও বলেন, “দ্রুত নির্বাচন সম্পন্ন করার নির্দেশনা রয়েছে। নতুন করে ভুয়া প্রতিষ্ঠানের তালিকা দিলে সময়সাপেক্ষ হলে যাচাই করা হবে। তবে যাচাইয়ের জন্য পুরো নির্বাচনী কার্যক্রম বন্ধ রাখা সম্ভব নয়। ব্যবসায়ীরা চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে পারেন।”
এর আগে ২০২৫ সালের ২ জানুয়ারি খুলনা চেম্বারের প্রশাসক হিসেবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নূরুল হাই মোহাম্মদ আনাছকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
পরে ৩০ ডিসেম্বর দায়িত্ব দেওয়া হয় বিতান কুমার মণ্ডলকে এবং দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এ পরিস্থিতিতে পূর্ণাঙ্গ যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করে স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.