যশোর প্রতিনিধি
যশোরের গ্রামীণ কাঁচা সড়কের দুই পাশে লাগানো সরকারি গাছ ব্যাপকহারে নিধনের শিকার হয়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে রোপণ করা ৬ হাজার গাছের মধ্যে বর্তমানে টিকে আছে মাত্র আড়াই হাজারের মতো। বাকিগুলো গত এক দশকে কৌশলে কেটে বা শুকিয়ে ফেলে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়নের সাড়াপোল-গাজীরপাড়া-সাড়াঘুটো সড়কের ৬ কিলোমিটার অংশে সামাজিক বন বিভাগ দুই পাশে মোট ৬ হাজার গাছ রোপণ করেছিল। একই প্রকল্পের আওতায় সাড়াপোল মধ্যপাড়া থেকে রুদ্রপুর কলেজ পর্যন্ত আরও ৫ কিলোমিটারে গাছ লাগানো হয়। তবে সবচেয়ে বেশি গাছ নিধনের ঘটনা ঘটেছে সাড়াপোল থেকে সাড়াঘুটো সড়ক অংশে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের দুই পাশে ফাঁকা ফাঁকা বাবলা, আকাশমণি ও শিশুগাছ দাঁড়িয়ে রয়েছে। অনেক জায়গায় গাছের গোড়া পড়ে থাকতে দেখা গেছে, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে সম্প্রতি গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া অন্তত ২০টি গাছের গোড়ার চারপাশে ছাল কেটে রাখা হয়েছে, যার ফলে গাছগুলো ধীরে ধীরে শুকিয়ে মারা যাচ্ছে।
যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এমএম) কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সোলজার রহমান বলেন, “গাছ নিধনের জন্য একটি কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রথমে গাছের গোড়ার ছাল কেটে রাখা হয়, পরে আবার কুপিয়ে দেওয়া হয়। এতে গাছ শুকিয়ে মারা যায় এবং পরে তা কেটে নেওয়া হয়। এভাবে গাছ কমে যাওয়ায় এলাকার জলবায়ু ও পরিবেশে বিরূপ প্রভাব পড়ছে।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি নিজেদের জমির পাশের গাছ কৌশলে সরিয়ে ফেলছেন। সাড়াপোল গ্রামের বাসিন্দা সঞ্জীব মণ্ডলের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে। তবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি কোনো গাছ কাটিনি, গাছগুলো এমনিতেই মরে গেছে।”
এলাকার আরেক বাসিন্দা হযরত আলী জানান, “মাঝেমধ্যে দেখি রাতের বেলা বা সুযোগ বুঝে গাছ কেটে ভ্যানে করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।”
এ বিষয়ে যশোরের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা অমিতা মণ্ডল বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। কিছু গাছ উদ্ধার করে উপকারভোগীদের কাছে রাখা হয়েছে। তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সামাজিক বনায়ন বিভাগ নার্সারি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এম এম মিজানুর রহমান জানান, “৬ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে ৬ হাজার গাছ রোপণ করা হয়েছিল। বর্তমানে আড়াই হাজারের মতো গাছ রয়েছে। কিছু গাছ ঝড়ে নষ্ট হয়েছে, তবে গাছের গোড়ার ছাল কেটে নষ্ট করার ঘটনাও পাওয়া গেছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সামাজিক বনায়নের আওতায় উপকারভোগী সমিতির সদস্যদের সঙ্গে ১০ বছরের চুক্তি থাকে। এসব গাছ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও তাদের ওপর বর্তায়। তবে দুর্বল তদারকি ও সমন্বয়ের অভাবে গাছ নিধন ঠেকানো যাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কঠোর নজরদারি ও আইনি পদক্ষেপ না নিলে বাকি গাছগুলোও হারিয়ে যাবে।

