মোঃ ইব্রাহীম মিঞা, বিরামপুর(দিনাজপুর)প্রতিনিধি
দিনাজপুরের বিরামপুর পৌর শহরের নবাবগঞ্জ রেলগেট সংলগ্ন একটি মাংসের দোকানে অসুস্থ গরু জবাই ও দুর্গন্ধযুক্ত মাংস বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে গরুর মালিক মোঃ রেজাউল করিমকে জরিমানা করা হয়েছে এবং জব্দকৃত মাংস ধ্বংস করা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে বিরামপুর পৌর শহরের নবাবগঞ্জ রেলগেট এলাকায় এক মাংসের দোকানে অসুস্থ গরু ও দুর্গন্ধযুক্ত মাংস বিক্রির অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা সেনেটারি ইন্সপেক্টর ইসমাইল হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
সে সময় উক্ত দোকানে মাংস বিক্রয় মূল্য তালিকা না থাকায় এবং দুর্গন্ধযুক্ত মাংস বিক্রয়ের সাথে জড়িত বিষয়ে নেহালের ছেলে আজিম কসাই এর নামও স্থানীয়ভাবে আলোচনায় আসে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ইসমাইল হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মাংসের গুণগত মান যাচাই করেন। তিনি জানান, মাংসটি মানবস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং বিক্রয়ের অনুপযোগী। পরে প্রশাসনকে অবহিত করা হলে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রশাসন আসার আগেই সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি সুকৌশলে সরে যান। এ সময় স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার সময় হাকিমপুর উপজেলার খট্টামাধপ পাড়া ইউনিয়নের লৌহচড়া গ্রাম থেকে আসা ক্রেতা ফরিদুল ইসলাম জানান, তিনি প্রায় দুই হাজার টাকার মাংস কিনেছিলেন। পরে অভিযোগের কথা শুনে তিনি তা ফেরত দিয়ে টাকা নিয়ে যান।
পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় গরুর মালিককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। বিরামপুর থানা পুলিশ জানায়, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ২০০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বিরামপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজিয়া নওরিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে অসুস্থ গরু বিক্রির দায়ে জরিমানার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের তথ্য অনুযায়ী, জব্দকৃত প্রায় ১০০ কেজি মাংস শালবাগান এলাকায় মাটিতে পুঁতে ধ্বংস করা হয়েছে।
এদিকে পৌরসভার কসাইখানা পরিদর্শক মোরশেদ জাহান চৌধুরী (রিমন) জানান, নির্ধারিত কসাইখানা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন স্থানে অনিয়ন্ত্রিতভাবে গরু জবাইয়ের অভিযোগ রয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
ঘটনার সময় জনসমাগমের মধ্যেই কয়েকজনের সরে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা রয়েছে। কিছু মানুষ মনে করছেন, বাজার তদারকিতে ঘাটতি থাকায় এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.