Nabadhara
ঢাকাশনিবার , ১১ এপ্রিল ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নোয়াখালীতে অবৈধ ইটভাটার দৌরাত্ম্য, পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কা—প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

নোয়াখালী প্রতিনিধি
এপ্রিল ১১, ২০২৬ ১:৫৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নোয়াখালী প্রতিনিধি

নোয়াখালী জেলায় অবৈধ ইটভাটার বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ফসলি জমি ও বসতিকে ঘিরে গড়ে ওঠা এসব ভাটায় কয়লার পরিবর্তে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ, ছড়াচ্ছে বিষাক্ত ধোঁয়া। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ বিপর্যস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়ছে বিভিন্ন রোগব্যাধি। এ অবস্থায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে সুবর্ণচর উপজেলার চরজব্বর ইউনিয়নের পশ্চিম চরজব্বর গ্রামে ‘মেসার্স তাহেরা ব্রিক ফিল্ড’-এ দেখা যায়, করাতকলের মাধ্যমে দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে কাঠ প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং সেই কাঠ দিয়েই ইট পোড়ানো হচ্ছে। ভাটায় ১২ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের দিয়েও শ্রমিক হিসেবে কাজ করানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভাটার আশপাশের বাসিন্দারা জানান, কয়েক বছর ধরে অবৈধভাবে ভাটাটি চালু রয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনকে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। মৌসুমের শুরুতে কিছু অভিযান চালিয়ে নামমাত্র জরিমানা আদায় করা হলেও পরে আর তদারকি থাকে না। তাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের যোগসাজশে এসব ভাটা নির্বিঘ্নে চলছে।

শুধু তাহেরা ব্রিক ফিল্ড নয়, সুবর্ণচর উপজেলাজুড়ে আলিফ, এ.কে.বি, আল্লাহর দান, একতা, যমুনা, মুক্তা, মহিন, রোহান, পপুলারসহ অন্তত ১৫টি অবৈধ ইটভাটা সক্রিয় রয়েছে। একই চিত্র দেখা গেছে হাতিয়া উপজেলাতেও, যেখানে অধিকাংশ ভাটাই অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর নোয়াখালীর তথ্য অনুযায়ী, জেলায় ১১৫টি ইটভাটার মধ্যে ৫৯টি বৈধ ও ৫৬টি অবৈধ। তবে স্থানীয়দের দাবি, বাস্তবে বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে ইটভাটার সংখ্যা দেড় শতাধিক।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব ভাটায় কাঠ পোড়ানোর ফলে বিষাক্ত ধোঁয়ায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে, বাতাস দূষিত হচ্ছে এবং নারী-শিশুসহ আশপাশের মানুষ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। পাশাপাশি ইটভাটার ভারী যান চলাচলে নষ্ট হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক।

কিছু ক্ষেত্রে মামলা হলেও আদালতের দোহাই দিয়ে বছরের পর বছর ভাটা চালু রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে আইনের ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর নোয়াখালীর উপ-পরিচালক মোসাম্মৎ শওকত আরা কলি বলেন, “সিজনের শুরুতে আমরা ছয়টি অভিযান পরিচালনা করেছি। ভ্রাম্যমাণ আদালতের পাশাপাশি বিভাগীয় পর্যায়েও এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম চলমান রয়েছে। শিগগিরই আবারও অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে।”

তবে মৌসুম শেষের দিকে অভিযান চালিয়ে কতটা কার্যকর ফল পাওয়া যাবে—এ প্রশ্নে তিনি স্পষ্ট জবাব দিতে পারেননি।

পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ ইটভাটা বন্ধে দ্রুত ও স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।