তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার উত্তর মাছিয়াড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে রয়েছে চারটি বসতঘর। ভুক্তভোগী ইউনুচ মোড়ল অভিযোগ করে বলেন, একই গ্রামের মৃত ছবেদ আলী মোড়লের ছেলে হযরত আলী মোড়ল (৫৭) ও তার ছেলে রাসেল মোড়ল (১৯) এ হামলার সঙ্গে জড়িত।
তিনি জানান, প্রায় ৪ শতক জমির ওপর তাদের বাপ-দাদার তিন পুরুষের বসতভিটা রয়েছে। জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে প্রায় ৮ বছর আগে আদালতে মামলা দায়ের হয়, যা এখনো বিচারাধীন। রোববার সকালে তারা বাড়িতে না থাকার সুযোগে প্রতিপক্ষরা বেলা ১১টার দিকে এসে কাঁচা-পাকা টিন ও টালির ছাউনি দেওয়া চারটি ঘর ভেঙে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়।
ইউনুচ মোড়লের দাবি, এ সময় তার ঘরে থাকা নগদ ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা ও দেড় ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নেওয়া হয়। এছাড়া তার ছোট ভাই আকবার মোড়লের ঘর ভাঙচুর করে ব্যাংক থেকে উত্তোলিত সাড়ে ৬ লাখ টাকা ও ৩ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বাধা দিতে গেলে তার বৃদ্ধ মা মোমেনা বেগম (৮০)-কে মারধর করা হয়। বর্তমানে তিনি আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত হযরত আলী মোড়লের ছেলে রাসেল মোড়ল বলেন, “জমিটি আমাদের রেকর্ডীয়। এ নিয়ে একাধিকবার গ্রামে শালিশ হয়েছে এবং শালিশী রায় আমাদের পক্ষে এসেছে। তারপরও তারা জমি ছাড়েনি। তাই আমরা ঘর ভেঙেছি। তবে টাকা ও স্বর্ণ চুরির অভিযোগ মিথ্যা।”
এ বিষয়ে তালা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার বিষয়ে এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

