মেহেরপুর প্রতিনিধি
মেহেরপুর সদর উপজেলার শোলমারি গ্রামে তৃতীয় শ্রেণীর এক ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় আসামি রিগান হোসেন (৪৮) কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ সোমবার দুপুরে মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক তাজুল ইসলাম এ রায় দেন। এবং আসামীর ২ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত রিগান হোসেন সদর উপজেলার তেরোঘরিয়া উত্তরপাড়া গ্রামের আবুল কালামের ছেলে।
নারী শিশু নির্যাতন দম ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পি পি) মোস্তাফিজুর রহমান মামলার বিবরণ দিয়ে জানান – ২০২৩ সালের ১০ মার্চ শোলমারি গ্রামে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিশু পার্শ্ববর্তী তেরোঘরিয়া গ্রামে তার নানাবাড়িতে বেড়াতে যায়। ১৫ মার্চ সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শিশুটি নানাবাড়ির পাশে খেলছিল। এ সময় রিগান হোসেন তাকে চকলেট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দোকানঘরের ভেতরে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ঘটনার পর শিশুটি অচেতন হয়ে পড়লে আসামি পালিয়ে যায়। পরে রিগানের মা ছকিনা খাতুন রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটিকে নানাবাড়িতে রেখে যান। জ্ঞান ফিরে পেলে শিশুটি ঘটনাটি জানায়। পরে তাকে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়ায় পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মেহেরপুর সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।
মামলায় ১৭ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেয়। বিচার চলাকালে আসামি দোষ স্বীকার করেন। সাক্ষ্য-প্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ দণ্ডাদেশ দেন।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে নারী শিশু নির্যাতন দম ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পি পি) মোস্তাফিজুর রহমান এবং আসামী পক্ষে পল্লব ভট্টাচার্য ও ইব্রাহিম শাহীন আইনজীবীর দায়িত্ব পালন করেন।

