যশোর প্রতিনিধি
যশোর জেনারেল হাসপাতাল–এর সামনের সড়কজুড়ে নিয়ম ভেঙে গড়ে উঠেছে অসংখ্য বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। আইন অনুযায়ী সরকারি হাসপাতালের ৩০০ গজের মধ্যে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান স্থাপন নিষিদ্ধ থাকলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের ঘোপ নওয়াপাড়া রোডের প্রায় ৫০০ মিটারের মধ্যে হাসপাতালের প্রধান ফটকের আশপাশে অন্তত ২০টির বেশি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে অধিকাংশেরই নেই বৈধ লাইসেন্স বা হালনাগাদ কাগজপত্র। অপ্রতুল জায়গা, অনুন্নত পরিবেশ ও মানহীন সেবার মধ্যেই চলছে এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম।
অভিযোগ রয়েছে, অনেক ক্লিনিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম, দক্ষ প্যাথলজিস্ট কিংবা প্রশিক্ষিত সেবিকা নেই। তারপরও রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসার নামে নেওয়া হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। এমনকি দালাল চক্রের মাধ্যমে সরকারি হাসপাতালের রোগীদের প্রলোভন দেখিয়ে এসব ক্লিনিকে নিয়ে আসা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, উন্নত চিকিৎসার আশ্বাস দিয়ে রোগীদের নিয়ে গিয়ে নিম্নমানের সেবা দেওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে রোগীরা প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। কেউ যেতে না চাইলে দালালদের মারধরের অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৯৮২ সালের ‘মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অধ্যাদেশ’ অনুযায়ী সরকারি হাসপাতালের নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে বেসরকারি ক্লিনিক স্থাপন নিষিদ্ধ। কিন্তু যশোরে এ আইন কার্যত উপেক্ষিত। অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় এসব প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে চালু রয়েছে।
এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়েত বলেন, হাসপাতালে দালাল চক্রের অস্তিত্ব অস্বীকার করার উপায় নেই। বিষয়টি একাধিকবার প্রশাসনের নজরে আনা হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে, যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা জানিয়েছেন, বেসরকারি ক্লিনিকগুলোর বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান শুরু হয়েছে। শিগগিরই শহরের অবৈধ ও মানহীন প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা তৈরি করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাধারণ মানুষের দাবি, দ্রুত এসব অবৈধ ক্লিনিক উচ্ছেদ করে স্বাস্থ্যসেবায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হোক এবং রোগীদের নিরাপদ চিকিৎসা নিশ্চিত করা হোক।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.