রাসেল আহমেদ,খুলনা প্রতিনিধি
তীব্র তাপপ্রবাহ ও জ্বালানি সংকটের মধ্যে খুলনার তেরখাদা উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের দফায় দফায় লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। দিন-রাত ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে জনজীবন। বিশেষ করে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে দুর্ভোগের মাত্রা।
উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে কয়েক লাখ মানুষ বিদ্যুৎ সংকটে অসহনীয় সময় পার করছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় বাসাবাড়ির স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসাতেও পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব। স্থানীয়দের ভাষ্য, তেরখাদায় যেন বিদ্যুৎ নেই, আছে শুধু লোডশেডিংয়ের দুঃস্বপ্ন।
উপজেলা সদরের বাসিন্দা মাসুদ শেখ বলেন, “পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে ফোন দিলে অনেক সময় রিসিভ করে না। দিনে-রাতে শুধু লোডশেডিং। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না—এটা এখন এক ধরনের মানবিক সংকটে রূপ নিয়েছে। শিক্ষার্থীরা পড়তে পারছে না, চাকরিজীবীরা কাজ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন, আর ব্যবসায়ীরা লোকসানের হিসাব গুনছেন।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনে-রাতে ১২ থেকে ১৫ বার বা তারও বেশি লোডশেডিং হচ্ছে। সকাল, দুপুর, বিকেল, সন্ধ্যা, এমনকি গভীর রাতেও চলছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট। এতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন।
এদিকে এসএসসি পরীক্ষা শুরুর প্রেক্ষাপটে বিপাকে পড়েছেন পরীক্ষার্থীরা।
ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। দক্ষিণপাড়া এলাকার এসএসসি পরীক্ষার্থী শান্ত ইসলাম বলেন, “রাতে পড়তে বসলেই বিদ্যুৎ চলে যায়। তীব্র গরমে ঠিকমতো পড়াশোনা করা যাচ্ছে না। পরীক্ষার প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে।”
লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যেও। সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশনার কারণে ব্যবসা আগেই সীমিত হয়ে পড়েছে। তার ওপর দিনভর বিদ্যুৎ না থাকায় আয়-রোজগারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। কম্পিউটার ব্যবসায়ী জয় রাজ বলেন, “বিদ্যুতের কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি নেই। কাজ থাকলে বিদ্যুৎ থাকে না, আবার বিদ্যুৎ থাকলে কাজ থাকে না—এভাবে ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।”
তেরখাদা উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার। জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ কম থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন পল্লী বিদ্যুতের তেরখাদা উপজেলা সাব-জোনাল অফিসের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (ওএন্ডএম) মো. তৌফিক ওমর। তিনি বলেন, “সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকদের সচেতনতারও প্রয়োজন রয়েছে।”
এ অবস্থায় দ্রুত বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের আশঙ্কা, কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে চলমান এই দুর্ভোগ আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.