জয়পুরহাট প্রতিনিধি
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় পড়া না পারার কারণে ১০ বছর বয়সী এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে নির্মমভাবে বেত্রাঘাতের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে মারধর করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার রামশালা মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বেত্রাঘাতের শিকার শিক্ষার্থীর নাম নাহিদ হাসান (১০)। সে রামশালা দারুল উলুম হাফেজিয়া মাদ্রাসার হেফজখানা বিভাগের আবাসিক ছাত্র এবং উপজেলার জাফরপুর গ্রামের বাসিন্দা মিজানুর রহমানের ছেলে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
থানা-পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাহিদ প্রায় পাঁচ বছর ধরে ওই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছে। বুধবার সকালে পড়া না পারায় মাদ্রাসার শিক্ষক আবু হুরাইরা তাকে বেত দিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ। তবে ঘটনাটি সে তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে জানায়নি।
বিকেলে নাহিদের বাবা মিজানুর রহমান ছেলের জন্য নাস্তা নিয়ে মাদ্রাসায় গেলে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ডোরাকাটা দাগ দেখতে পান। পরে নাহিদ জানায়, সকালে পড়া না পারায় তাকে বেত্রাঘাত করা হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে মাদ্রাসার অন্য শিক্ষকেরা অভিযুক্ত শিক্ষককে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন। পরে নাহিদকে রামশালা মোড়ে এক স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। সেখানে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক ওমর ফারুক গেলে ক্ষুব্ধ জনতা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে এবং একপর্যায়ে মারধর করে।
খবর পেয়ে রাত সাড়ে আটটার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
নাহিদ হাসান জানায়, “আমি পড়া দিতে পারিনি। এজন্য হুজুর আমাকে অনেক মারধর করেছেন। হাত জোড় করেও রক্ষা পাইনি।”
নাহিদের বাবা মিজানুর রহমান বলেন, “শাসন করা যেতে পারে, কিন্তু যেভাবে আমার ছেলেকে মারা হয়েছে, তা অমানবিক। চোরকেও এভাবে মারা হয় না। সকালবেলার মারধরের দাগ সন্ধ্যাতেও স্পষ্ট ছিল।”
মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক ওমর ফারুক বলেন, “ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষক পালিয়ে গেছেন। তবে তাকে পালাতে সহায়তার অভিযোগ সঠিক নয়। উল্টো আমাকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ওই মাদ্রাসায় প্রায়ই শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগ শোনা যায়। আগেও বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান বলেন, “শিক্ষার্থীর শরীরের অবস্থা দেখে আমি হতবাক। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন রেজা জানান, “ছাত্রকে বেত্রাঘাতের ঘটনায় বিক্ষুব্ধ লোকজন প্রধান শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.