মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের মনিরামপুর উপজেলায় সরকারি জলাশয় (বাওড়) দখল ও নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে প্রভাবশালীদের মধ্যে চলছে রশি টানাটানি। এর ফলে মাছ ধরা থেকে বঞ্চিত হয়ে বাওড়নির্ভর প্রকৃত মৎস্যজীবী পরিবারগুলো চরম অভাব-অনটনের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ঝাঁপা, পারখাজুরা, খেদাপাড়া, খাটুরা ও হরিহরনগর—এই পাঁচটি বাওড় ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে মৎস্যজীবী পরিচালিত সমবায় সমিতির কাছে ইজারা দেওয়া হয়। তবে বাস্তবে প্রভাবশালী মহল বিপুল অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে এসব বাওড়ের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়। ফলে প্রকৃত মৎস্যজীবীরা মালিকানা হারিয়ে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে বাওড় দখল নিয়ে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। গত ৭ এপ্রিল খাটুরা বাওড়ে মাছ ধরা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। পরে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ধরা মাছ ঘটনাস্থলেই নিলামে বিক্রি করা হয়। এর আগে ১৯ মার্চ পারখাজুরা বাওড়েও মাছ ধরা নিয়ে সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অনেক অপ্রকৃত মৎস্যজীবী সদস্যপদ গ্রহণ করেন। ইউনিয়ন পরিষদের প্রত্যয়নপত্র ও এফিডেভিটের মাধ্যমে তারা সমবায় সমিতির সদস্য হয়ে বাওড়ের নিয়ন্ত্রণে অংশ নেন। ফলে প্রকৃত মৎস্যজীবীরা ক্রমেই বঞ্চিত হয়ে পড়েন।
সূত্র আরও জানায়, ১৯৮৯ সালে ভূমি মন্ত্রণালয়, মৎস্য মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (ইফাদ)-এর মধ্যে চুক্তির মাধ্যমে বাওড় ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ইফাদের হাতে যায়। পরবর্তীতে ইফাদের তত্ত্বাবধানে প্রকৃত মৎস্যজীবীদের সংগঠিত করে সমবায় সমিতির মাধ্যমে বাওড় পরিচালনা করা হতো। এতে মৎস্যজীবীরা উপকৃত হন।
তবে সময়ের সাথে সাথে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, রাজনৈতিক প্রভাব এবং নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তনের কারণে বাওড় ব্যবস্থাপনায় জটিলতা তৈরি হয়। ইফাদের কার্যক্রম কিছু বাওড় থেকে বন্ধ হয়ে গেলে পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটে। বর্তমানে এসব বাওড়ের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আদালত পর্যন্ত মামলা গড়িয়েছে।
মৎস্যজীবীরা জানান, মাছ ধরতে না পারায় তাদের পরিবার নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটছে। অনেকেই বিকল্প জীবিকার সন্ধানে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সেলিম রেজা জানান, প্রকৃত মৎস্যজীবীদের অধিকার নিশ্চিত করতে এবং বাওড় ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রাথমিকভাবে খাটুরা, খেদাপাড়া ও হরিহরনগর—এই তিনটি বাওড় মৎস্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বাওড়কেন্দ্রিক জীবিকা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংসের মুখে পড়বে এবং প্রকৃত মৎস্যজীবীরা আরও বিপর্যস্ত হয়ে উঠবেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.