চিতলমারী (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় বোরো ধান মৌসুমে মিলার ও ফড়িয়াদের কারসাজির কারণে ধানের বাজারদরে বড় ধরনের ধস নেমেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা, অনেকেই চরম লোকসানের আশঙ্কা করছেন।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, একদিকে ধান কাটার মৌসুমে শ্রমিক সংকট ও শ্রমমূল্য বৃদ্ধি, অন্যদিকে বাজারে ধানের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে এলাকায় এক মণ ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়, যেখানে শ্রমিকের দৈনিক পারিশ্রমিক দাঁড়িয়েছে ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকায়।
কুরমণি গ্রামের কৃষক মালেক শেখ বলেন, “আকাশের অবস্থা খারাপ, ঝড়-বৃষ্টির কারণে ধান মাঠেই পড়ে আছে। শ্রমিকের দাম বেশি, আবার ধানের দাম কম। এখন কীভাবে ধান ঘরে তুলব বুঝতে পারছি না।”
দুর্গাপুর গ্রামের বোরোচাষি প্রতুল হালদারসহ অনেকে জানান, ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তারা চাষাবাদ করেছেন। কিন্তু বর্তমান বাজারদরে ধান বিক্রি করে সেই ঋণ শোধ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। তাদের দাবি, স্থানীয় ফড়িয়া, মিলমালিক ও গুদাম মালিকদের সিন্ডিকেটের কারণে ধানের দাম কৃত্রিমভাবে কমিয়ে রাখা হচ্ছে।
এদিকে উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে চিতলমারীতে ১২ হাজার ১৫৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে এবং এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। ধান কাটা ও পরিবহনে সহায়তার জন্য কৃষকদের শতাধিক তেলের কার্ড দেওয়া হয়েছে। তবে একমাত্র তেল পাম্পে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সিফাত-আল-মারুফ জানান, সরকারিভাবে প্রতি মণ ধান ১,৪৪০ টাকায় কেনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই কার্যক্রম শুরু হলে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ অবস্থায় দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ না হলে আগামীতে ধান চাষে কৃষকদের আগ্রহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.