শামীম শেখ, গোয়ালন্দ ( রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে প্রশাসনকে বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখিয়ে মো.সুমন মোল্লা ওরফে চাঁদাই (৪৫) নামে এক শ্রমিক দল নেতা বিয়ারের রমরমা ব্যবসা গড়ে তুলেছেন।
মোঃ মকিম মন্ডল নামে একজন আইনজীবীর সাথে কথোপকথনকালে সুমন তার বিয়ার
ব্যাবসার কথা স্বীকার করেন। শনিবার রাত থেকে এ সংক্রান্ত একটি অডিও রেকর্ড ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়।
এর আগে শনিবার অ্যাডভোকেট মকিম যৌনপল্লীতে মন্ডল সুমন মোল্লার বিয়ার ব্যবসা, ইয়াবার বড় বড় চালান এনে ব্যবসা করা, পল্লীতে বাড়ি দখল সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে একটি পোষ্ট করেন।
সুমন মোল্লা ওই পোষ্টের প্রতিবাদ করতে গিয়ে বিয়ার ব্যবসার কথা স্বীকার করেন এবং অন্য বিষয়গুলোর বিষয়ে অস্বীকার করেন। বিয়ার ব্যবসার সাথে তার আরো ৩ জন সঙ্গী রয়েছে বলেও তিনি স্বীকার করেন। তবে তাদের নাম বলেননি।
সুমন গোয়ালন্দ উপজেলা শ্রমিক দলের সহ-সভাপতি ও গোয়ালন্দ ইমাম বাড়া শরীফের সাধারণ সম্পাদক।
এছাড়া ২০২৪ সালে জুলাই আন্দোলনের পর পল্লীর সাবেক প্রভাবশালী নেত্রী ঝুমুরের বিশালাকার বাড়ি নাম মাত্র মূল্যে কেনার মাধ্যমে তিনি এখন পল্লীর বাড়ীওয়ালা। অভিযোগ রয়েছে ক্ষমতার প্রভাব এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে ম্যানেজ করে তার বাড়িতে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের দিয়ে দেহ ব্যবসা চালানো হয়।
স্থানীয়রা জানান,, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পর থেকে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে দখল বাজীসহ নানান ধরনের অপকর্মের সাথে যুক্ত সুমনসহ কয়েকজনেরএকটি চক্র।
তারা বিভিন্ন সময় দলের নাম ভাঙ্গিয়ে এ অপকর্মগুলো করে যাচ্ছে। যৌনপল্লীতে কোন সমস্যা হলে তারা বিচার সালিশ করছে। বিচার সালিশের নামে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা। তাদের অত্যাচার অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে যৌনপল্লীর সাধারন যৌনকর্মী ও অন্যান্যরা।
গোয়ালন্দ উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মো. সরোয়ার হোসেন মোল্লা জানান, সুমনের বিয়ার ব্যবসার বিষয়টি আমি ফেসবুকের মাধ্যমে শুনেছি ও দেখেছি। শ্রমিক দলের মধ্যে কোন খারাপ লোক রাখবো না।জেলা পর্যায়ের নেতাদের সাথে বসে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সুমন মোল্লার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি স্বীকার করেন। তার সাথে থাকা বাকি তিন জনের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি সামনাসামনি কথা বলতে চান।
এ বিষয়ে রাজবাড়ী জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু আব্দুল্লাহ জাহিদ বলেন, বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমি জেনেছি। বিয়ার অবৈধ মাদক দ্রব্য। সুমন মোল্লার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে আলোচনা চলছে।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.শফিকুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান,,
যৌনপল্লীতে কমবেশি মাদক আছে, থাকবে। এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমি মকিম মন্ডল ও সুমন মোল্লার কথোপকথনের একটি অডিও ক্লিপ দেখেছি। এর বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে চিন্তাভাবনা করছি।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.