যশোর প্রতিনিধি
একটি টিনশেড ঘর, চারদিকে জরাজীর্ণ অবস্থা—এটাই নাকি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়! যশোরের চৌগাছা উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নে এমনই করুণ চিত্র চোখে পড়েছে। দীর্ঘদিনেও স্থায়ী ভবন নির্মাণ না হওয়ায় সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, বাড়ছে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি।
প্রায় ৪০ হাজার মানুষের বসবাস এই ইউনিয়নে। রয়েছে চারটি কলেজ ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ১৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। যোগাযোগ, শিক্ষা ও কৃষিখাতে উন্নয়ন হলেও ইউনিয়ন পরিষদের অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। ফলে আধুনিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা যায়, পাশাপোল গ্রামের একটি দোকানঘরের মতো টিনশেডে চলছে পরিষদের সব কার্যক্রম। ছুটির দিনেও বিভিন্ন কাজে আসা সেবাপ্রার্থীরা ভবনের বেহালদশা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইউনিয়নের পূর্ব ও পশ্চিম অংশের মধ্যে পরিষদ ভবনের স্থান নির্ধারণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। পূর্ব পাশে হাউলি, দুড়িয়ালী, মালিগাতি, সুরেশ্বরকাটি, রানীয়ালী ও গোবিন্দপুরসহ কয়েকটি গ্রাম, আর পশ্চিম পাশে পাশাপোল, দশপাকিয়া, রঘুনাথপুর, পলুয়া ও খলশীসহ বেশ কিছু গ্রাম রয়েছে। এই বিরোধের জেরে ১৯৯২ সালে একটি মামলা দায়ের হয়, যা এখনও নিষ্পত্তি হয়নি।
জানা যায়, স্বাধীনতার পর থেকে একাধিক চেয়ারম্যান নিজ নিজ এলাকায় বসেই ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। ফলে স্থায়ী কার্যালয়ের অভাবে কাগজপত্র সংরক্ষণ, আসবাবপত্র ব্যবস্থাপনা ও জনসেবা—সব ক্ষেত্রেই বিঘ্ন ঘটছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মাস্টার তোফাজ্জল ইসলাম বলেন, বর্তমানে যেখানে পরিষদের কার্যক্রম চলছে সেখানে প্রায় ৫৪ শতক জমি রয়েছে, যা ইউনিয়নের মাঝামাঝি অবস্থানে। বিরোধ ভুলে এই স্থানেই স্থায়ী ভবন নির্মাণ করা হলে পুরো ইউনিয়নের মানুষ সহজে সেবা পাবে।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিনের এই জটিলতা দ্রুত সমাধান করে আধুনিক ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক। অন্যথায় সেবাপ্রার্থীদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.