যশোর প্রতিনিধি
যশোরের অভয়নগর উপজেলায় বোরো ধান কাটার মৌসুম শুরু হলেও শ্রমিক সংকট ও অতিরিক্ত মজুরির কারণে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। বর্তমানে মাত্র পাঁচ ঘণ্টার কাজের জন্য একজন ধানকাটা শ্রমিককে দিতে হচ্ছে ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা পর্যন্ত।
উপজেলার সুন্দলী ইউনিয়নের কৃষক আদিত্য ধর বলেন, “এক শ্রেণির শখের কৃষক অল্প জমিতে চাষ করে দ্রুত ধান ঘরে তুলতে বেশি মজুরি দিয়ে শ্রমিক নিয়োগ করছেন। ফলে বাজারে শ্রমিকের চাহিদা ও মজুরি দুটোই বেড়ে গেছে। এতে আমাদের মতো প্রকৃত কৃষকরা সমস্যায় পড়েছি।”
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে অভয়নগরে ১২ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে এবং লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জিত হয়েছে। প্রতি বিঘায় (৩৩ শতাংশ) গড়ে প্রায় ৩০ মণ ধান উৎপাদন হয়েছে। উপজেলার প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষই ধান চাষের ওপর নির্ভরশীল। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর ফলনও ভালো হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, অধিকাংশ জমির ধান পেকে গেছে এবং জোরেশোরে ধানকাটা চলছে। তবে শ্রমিকের অভাব ও উচ্চ মজুরির কারণে কৃষকরা সময়মতো ধান ঘরে তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন।
সুন্দলী গ্রামের কৃষক অলোক বিশ্বাস বলেন, “ফলন ভালো হলেও শ্রমিকের মজুরি অনেক বেশি। একজন শ্রমিককে হাজার টাকারও বেশি দিতে হচ্ছে, অথচ তারা কাজ করছে মাত্র পাঁচ ঘণ্টা। এতে খরচ বেড়ে যাচ্ছে।”
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লাভলী খাতুন বলেন, “উপজেলাজুড়ে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে এবং প্রায় ৭০ শতাংশ জমির ধান পেকে গেছে। তবে শ্রমিক সংকট ও অতিরিক্ত মজুরির কারণে কৃষকরা কিছুটা সমস্যায় আছেন। বিষয়টি সমাধানে আমরা কাজ করছি।”
কৃষকদের দাবি, দ্রুত শ্রমিক সংকট নিরসন ও মজুরি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় তারা আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়বেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.