খুলনা প্রতিনিধি
খুলনায় একের পর এক হত্যাকাণ্ডে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। চলতি বছরের প্রথম চার মাসেই জেলায় ১২টির বেশি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে পারিবারিক দ্বন্দ্ব, জমি-সংক্রান্ত বিরোধ, অবৈধ সম্পর্ক এবং সামাজিক অস্থিরতা।
সর্বশেষ ২৭ এপ্রিল পাইকগাছা উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ছোট ভাইয়ের আঘাতে নিহত হন বীরেন বৈরাগী। এর আগে ১৮ এপ্রিল নগরীর সোনাডাঙ্গায় পারিবারিক কলহের কারণে রেলওয়ে পুলিশের কনস্টেবল সম্রাট বিশ্বাস মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেন।
১০ এপ্রিল রূপসা উপজেলার আইচগাতিতে পারিবারিক বিরোধের জেরে ছেলের লাঠির আঘাতে প্রাণ হারান মিম্মি বেগম। ২৪ মার্চ কয়রা উপজেলার জোড়শিং গ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফজলু গাজীকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন তার স্ত্রী।
এরও আগে ২৭ মার্চ রূপসায় স্বামী খোকন শিকদারের শাবলের আঘাতে নিহত হন খুরশিদা বেগম। ৪ মার্চ বটিয়াঘাটার গজালিয়া গ্রামে প্রবাসী নারী সালেহা বেগমকে হত্যা করা হয়। তদন্তে জানা যায়, পরকীয়া সম্পর্কের জেরে প্রেমিক লালন গাজী তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে।
২৫ ফেব্রুয়ারি ইজিবাইক ছিনিয়ে নিতে চালক রানা হাওলাদারকে হত্যা করে তিন বন্ধু। এছাড়া ১৫ ফেব্রুয়ারি রূপসার রামনগরে পরকীয়া সম্পর্কের জেরে মোহর আলী শেখকে হত্যা করেন তার স্ত্রী।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার জাহিদুল হাসান বলেন, প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা খুলনার সমন্বয়কারী মোমিনুল ইসলাম মনে করেন, সামাজিক অস্থিরতা এবং পারিবারিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এসব ঘটনার জন্য দায়ী।
সুন্দরবন কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক প্রকাশ চন্দ্র অধিকারী বলেন, আইনের দুর্বল প্রয়োগ, পারিবারিক দ্বন্দ্ব এবং মানসিক অস্থিরতা মানুষকে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য করে তুলছে। ফলে সামান্য স্বার্থের কারণেও মানুষ অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পারিবারিক দ্বন্দ্ব নিরসনে কাউন্সিলিং ব্যবস্থা জোরদার করা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে এ ধরনের সহিংসতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.