রাজশাহী প্রতিনিধি
রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) নতুন ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য সিলিন্দায় প্রায় ৭০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। তবে এই প্রকল্পের নির্মাণকাজের জন্য সহস্রাধিক গাছ কেটে সাবাড় করা হয়েছে, যা কোনো দরপত্র ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, নির্মাণাধীন ক্যাম্পাসে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার গাছ রয়েছে, যার মধ্যে আমসহ বিভিন্ন ফলজ ও প্রজাতির গাছ রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, আমগাছ কেটে তা নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করা হয়েছে এবং বিক্রির টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ডে না দিয়ে আত্মসাত করা হয়েছে। সূত্রের দাবি, এই চক্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু কর্মকর্তা ও সিন্ডিকেট সদস্য জড়িত রয়েছেন।
প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক ও পরিকল্পনা বিভাগের পরিচালক প্রকৌশলী সিরাজুম মুনীর জানিয়েছেন, “আমাদের পক্ষ থেকে কোনো গাছ কাটা হয়নি। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান বেআইনিভাবে গাছ কেটেছে। তাই শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাদের জবাব পাওয়ার পর যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান হোসাইন কন্সট্রাকশন প্রাইভেট লিমিটেডের রাজশাহীর ব্যবস্থাপক দেলোয়ার হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তাদের কাজ শুধুমাত্র বালুভরাট পর্যন্ত সীমিত এবং গাছ কাটার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।
এদিকে, বন বিভাগের কর্মকর্তারা গাছগুলির মূল্যায়ন করতে কয়েকবার চিঠি পাওয়ার পরও এখনও প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির ব্যক্তিগত সহকারী নাজমুল ইসলাম জানান, বন কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন কাজ চলমান রয়েছে এবং যত দ্রুত সম্ভব প্রতিবেদন দেওয়া হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইতোমধ্যেই ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে কেটে ফেলা গাছের জায়গায় শাকসবজি চাষ করা হয়েছে, এবং অনেক গাছ নম্বরিং করা হলেও বিক্রির জন্য দরপত্র বা কার্যাদেশ দেওয়া হয়নি।
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শোকজ নোটিশ দিয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

