গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি
মাহিন্দ্রা ভাংচুর ও চালকের ওপর হামলার অভিযোগে বাসের ওপর হামলা ও বাস শ্রমিকদের মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এঘটনায় উভয় পক্ষের ৬জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে দুইজন উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। হামলার প্রতিবাদে মহাসড়কের ওপর প্রায় ৩০ মিনিট আড়াআড়ি ভাবে বাস রেখে প্রতিবাদ জানায় বাস শ্রমিকরা। এতে মহাসড়কের দুই পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে বারটার দিকে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর বাসষ্ট্যান্ডে এই ঘটনা ঘটে।
বরিশাল বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম ফকির বলেন, বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে এগারটার দিকে বাটাজোরের এক মাহিন্দ্রা চালক নথুল্লাবাদ মহাসড়কের ওপর মাহিন্দ্রা থামিয়ে যাত্রী তুলছিলেন। এসময় বাস শ্রমিকরা মাহিন্দ্রার পেছনে লাঠি দিয়ে আঘাত করে মহাসড়ক থেকে ওই মাহিন্দ্রা চালককে সরিয়ে দেয়। পরবর্তীতে ওই মাহিন্দ্রা চালক বাটাজোর এসে অন্যান্য মাহিন্দ্রা চালকদের জড়ো করে অবস্থান নেয়। এরইমধ্যে নথুল্লাবাদ থেকে ছেড়ে আসা এসআর বাস বাটাজোর বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছলে মাহিন্দ্রা চালক হুমায়ুনের নেতৃত্বে ২০/২৫ জন মাহিন্দ্রা শ্রমিক বাসের ওপর হামলা চালায়।
এসময় বাসের ড্রাইভার, হেলপার ও সুপার ভাইজারকে বাস থেকে নামিয়ে মারধর করা হয়। দুই যাত্রী ঘটনার প্রতিবাদ করলে তাদেরকেও পিটিয়ে আহত করা হয়।
অভিযোগ অস্বীকার করে মাহিন্দ্রা চালক হুমায়ুন বলেন, নথুল্লাবাদ এলাকায় বসে অহেতুক ভাবে আমার রুটি-রুজির একমাত্র বাহন মাহিন্দ্রাটি ভেঙ্গে ফেলে বাস শ্রমিকরা। এসময় আমি প্রতিবাদ করলে আমাকে ব্যাপক মারধর করা হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি বাটাজোরের অন্যান্য চালক ও মাহিন্দ্রা সমিতিকে জানানো হয়।
এরইমধ্যে এসআর নামের বাসটি বাটাজোর বাসষ্ট্যান্ডে এসে থামালে উত্তেজিত জনতা ও মাহিন্দ্রা চালকরা বাসটি কিছুক্ষন আটকে রাখে। এসময় বাস শ্রমিকরা একজন মাহিন্দ্রা চালককে উঠিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাদের প্রতিহত করে। তবে বাসের ওপর হামলা কিংবা শ্রমিকদের মারধরের ঘটনা ঘটেনি। পরবর্তীতে ওই বাসের চালক মহাসড়কের ওপর বাস রেখে জনদূর্ভোগ সৃষ্টি করে।
গৌরনদী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. মাহবুবুর রহমান জানান, খবরপেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করা হয়েছে। যান চলাচল স্বাভাবিক আছে। এঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

