Nabadhara
ঢাকাশুক্রবার , ২৯ আগস্ট ২০২৫
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝিনাইদহ
  13. ঢাকা বিভাগ
  14. তথ্যপ্রযুক্তি
  15. দিনাজপুর
আজকের সর্বশেষ সবখবর

যশোরের চৌগাছায় মুখি কচুর বাজারে ধস, পথে বসার উপক্রম শত শত চাষি

যশোর জেলা প্রতিনিধি
আগস্ট ২৯, ২০২৫ ১১:০৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

যশোর জেলা প্রতিনিধি

যশোরের চৌগাছা উপজেলার কৃষকরা মুখি কচু চাষ করে স্বপ্ন দেখেছিলেন সাফল্যের, কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন পরিণত হয়েছে এক দুঃসহ বাস্তবতায়। চলতি মৌসুমে লাগাতার বৃষ্টিপাত ও জলাবদ্ধতার কারণে ক্ষেতেই নষ্ট হয়েছে বিপুল পরিমাণ ফসল, আর বাজারে অস্বাভাবিক দরপতনের ফলে উৎপাদিত ফসল বিক্রি করেও খরচ তুলতে পারছেন না চাষিরা।

কৃষকরা জানান, মুখি কচু সাধারণত একটি লাভজনক ফসল হিসেবে পরিচিত। অনেকেই নিজেদের জমি ছাড়াও বর্গা, লিজ বা বন্ধক নেয়া জমিতে এই ফসল চাষ করেছিলেন। কিন্তু গত কয়েক মাসের টানা বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় এবং ফসল বাজারজাত করা কঠিন হয়ে পড়ে। ক্ষেত থেকে কচু তোলার পর শুকিয়ে বা পরিষ্কার করে বাজারে তুলতেও বেড়েছে অতিরিক্ত খরচ।

বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি মুখি কচু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১০ থেকে ১২ টাকায়, যেখানে অন্যান্য বছরে এই কচুর দাম হতো ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত। খুচরা বাজারেও দাম সর্বোচ্চ ২৫ টাকায় নেমে এসেছে, যা কৃষকদের জন্য একপ্রকার মরার উপর খাড়ার ঘা।

আন্দুলিয়া গ্রামের কৃষক সাহেব আলী জানান, তিনি ১ বিঘা জমিতে মুখি কচু চাষ করেছিলেন, আশা ছিল ১ থেকে ২ লাখ টাকা লাভ হবে। কিন্তু বর্তমানে যে দর পাচ্ছেন, তাতে চাষের খরচই উঠছে না।
একই অবস্থা উপজেলার কুলিয়া, খড়িঞ্চা, দেবলয়, সাঞ্চডাঙ্গা, আড়শিংড়ী, রামকৃষ্ণপুর, হাজরাখানা, ভগবানপুরসহ প্রায় প্রতিটি গ্রামের চাষিদের।

আড়শিংড়ী গ্রামের চাষি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “এই বছরে লোকসানের শেষ নেই। সার, কীটনাশক, শ্রমিক সবকিছুর খরচ ধারদেনা করে করেছি, এখন সর্বস্বান্ত হওয়ার পথে।”

চৌগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুশাব্বির হুসাইন বলেন, “এ অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া মুখি কচু চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কিন্তু অতিবৃষ্টির কারণে উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি বাজারে দরের অস্বাভাবিক পতনের কারণে কৃষকরা লাভ তো দূরের কথা, খরচই তুলতে পারছেন না।”

তিনি জানান, চলতি মৌসুমে চৌগাছা উপজেলায় প্রায় ৩৫০ হেক্টর জমিতে মুখি কচুর আবাদ হয়েছিল।

চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আক্তার বলেন, “বৃষ্টির কারণে সব ধরনের ফসলেই ক্ষতি হয়েছে। কচুর ক্ষেতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ফলন কম, দামও কম। কৃষকরা যেন কিছুটা সহায়তা পান, সে জন্য উপজেলা কৃষি অফিস থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রণোদনা এলে তা দ্রুত বিতরণ করা হবে।”

এমন অবস্থায় মুখি কচু চাষিদের দাবি, তাদের যেন প্রণোদনা ও সহজ শর্তে কৃষিঋণের মাধ্যমে সহযোগিতা করা হয়, যাতে আগামী মৌসুমে নতুন করে চাষাবাদের সাহস পেতে পারেন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।