পটুয়াখালী প্রতিনিধি
পটুয়াখালী–৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনকে বিএনপি থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত স্থানীয় রাজনীতিতে তীব্র উত্তাপ সৃষ্টি করেছে। ভোটের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে এই ঘটনা কেন্দ্র বনাম তৃনমূল দ্বন্দ্বকে প্রকাশ্য করেছে।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে একটি বড় অংশ এখনও হাসান মামুনের পাশে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তিনি সাধারণ মানুষ ও ভোটারদের সঙ্গে সুদৃঢ় সম্পর্ক তৈরি করেছেন এবং সাংগঠনিক সংকটে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
এক তৃণমূল নেতা বলেন, “হাসান মামুনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক নির্বাচনী হিসাবেও গুরুত্বপূর্ণ; তাঁর জনপ্রিয়তা ভোটের মাঠে একটি বড় ফ্যাক্টর।”
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় বিএনপি ও জোটের অনেক নেতা নুরকে সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মেনে দলীয় ঐক্য বজায় রাখা জরুরি। তবে এই সিদ্ধান্ত তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ উঠেছে, কমিটিতে পদবিন্যাসে দীর্ঘদিনের নেতাকর্মী ও ত্যাগী সদস্যদের অনুপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, এবং গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো মূলত হাসান মামুনের অনুসারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পটুয়াখালী–৩ আসনের এই দ্বন্দ্ব শুধু একজন নেতা বা সিদ্ধান্তের বিষয় নয়; এটি কেন্দ্র বনাম মাঠের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশ। বিশেষ করে এই এলাকায় ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও স্থানীয় সমর্থন ভোটের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর।
হাসান মামুনের সমর্থকরা বলছেন, স্থানীয় নেতাকর্মীদের ব্যাপক সমর্থন তাঁকে এখনও ভোটব্যাংক হিসেবে শক্তিশালী করে রাখছে। এই সমর্থন বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের পর তৃণমূলের মধ্যে বিভাজন আরও স্পষ্ট করেছে।
“স্থানীয় নেতারা মূলত তাঁকে সমর্থন করছেন, তাই কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত সরাসরি ভোটের সমীকরণকে প্রভাবিত করতে পারে,” বলেছেন এক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক।
ফলে, পটুয়াখালী–৩ আসনের ভোট এখন অনিশ্চিত ও উত্তেজনাপূর্ণ, যেখানে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বনাম তৃনমূলের সমর্থন এবং হাসান মামুনের জনপ্রিয়তা নির্বাচনী ফলাফলে সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
শেষ পর্যন্ত দেখা যাবে, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত নাকি স্থানীয় সমর্থন—কোনটি ভোটের ফলাফলে প্রাধান্য পাবে।

