মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
কোথাও উঁচু, কোথাও নিচু, এ যেন পাহাড়ি ঢালু। কোথাও আবার নর্দমার পানিতে একাকার রাস্তা। এ যেন ময়লা পানির ফোয়ারা বইয়ে চলছে।
রাস্তা তো নয় যেন, কৃষকের মাটি নিংরানো ফসলের মাঠ। যেভাবেই বর্ণনা করা হউক, সেটাও কম হয়ে যাবে। রাস্তার স্লাব বিহীন ড্রেনের কারণে রাস্তাটি দূর্ঘটনার সম্ভবনা বেড়ে গেছে অনেক। রাস্তা জুড়ে শত শত গর্ত।
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের মাদবর বাড়ি ব্রিজ থেকে দয়াল বাজার ভিতর দিয়ে ফিরিঙ্গি বাজার পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার রাস্তায় অবস্থা ভয়াবহ নাজুক অবস্থা। বর্তমানে একবারেরই রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী। বর্ষা মৌসুমে তো রাস্তায় এতোটাই পানি জমে থাকে যে, কোথায় রাস্তা আর কোথায় ড্রেন বুঝা মুশকিল। তাছাড়াও রাস্তায় ময়লা পানি জমে থাকে সব সময়।
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা এটি। পঞ্চসার ইউনিয়নের হাজার হাজার ব্যবস্যা প্রতিষ্ঠান ও মিরকাদীম পৌরসভার কয়েক লাখ লোকের জন্য অতীব জরুরি রাস্তা এটি। মাত্র এক বছর আগেই কাজ হয়েছিল এ রাস্তার। কিন্তু নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ও অপরিকল্পিত কাজের কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই রাস্তার বেহাল দশা। এছাড়াও অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, রাস্তার পাশের দোকানিদের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিত রাস্তা খোঁড়া-খুঁড়ির কারণে রাস্তার সর্বনাশ।
রাস্তার পাশে ব্যক্তিগত ভবন নির্মাণের সময় অপব্যবহার ব্যবহারের কারণেও রাস্তায় ক্ষতি হয়েছে অনেক। রাস্তা খারাপ হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে ড্রেন নির্মাণের পর কর্তৃপক্ষ স্লাব না লাগিয়েই চলে যায়। রাস্তার ময়লা পানিতে সারা বছরই রাস্তা তলিয়ে থাকে। যে কারণে দ্রুতই রাস্তাটি নষ্ট হয়ে গেছে।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ফিরিঙ্গি দিয়ে ডুকলে প্রথমেই দেখা যায় ভাঙা রাস্তা আর ড্রেনের ময়লা পানি একাকার হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও এমন অবস্থা যে, এটি ময়লার ভাগাড় নাকি রাস্তা বোঝা মুশকিল। দয়াল বাজারের কাঁচা বাজারের সামনের রাস্তার অংশটুকু এতাটাই খারাপ যে, এখানে যে পূর্বে কখনো পিচ ঢালাই রাস্তা ছিলো কোন ভাবেই বুঝা যায় না। মোটকথা এ রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।
এ রাস্তায় যাতায়াতকারী একজন জানান, রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। আমরা বাধ্য হয়েই এ রাস্তায় যাতায়াত করি। নিম্নমানের কাজ, ড্রেনে স্লাব না থাকা, অনুমতি ব্যতিত ব্যবসায়ীদের রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি কারণে রাস্তাটির এই নাজেহাল অবস্থা। রাস্তাটি মেরামত হলে মুক্তারপুর পেট্রোল পাম্প ও মুক্তারপুর চৌরাস্তার যানজট ও কমে আসবে।
বিনোদপুর রাম কুমার উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন একজন ছাত্রী জানায়, আমরা প্রতিদিনই এ রাস্তা বিদ্যালয়ে যাই। এই রাস্তার অবস্থা এমন যে, রিকশায় গেলে ব্যাথা পাওয়া যায়। আবার হেঁটে যাওয়ার গেলেও দূর্ঘটনার সম্ভবনা অনেক। দ্রুত এই রাস্তাটি সংস্কার করা দরকার।
স্থানীয় বাসিন্দা আল আমিন বলেন, এই রাস্তা খারাপ হওয়ার মূল কারণ, গত বছর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ড্রেনের কাজ করার পর স্লাব লাগাই নাই। যেকারণে ড্রেনের ময়লা পানি সব সময়ই রাস্তায় ওঠে থাকে, আর দ্রুতই রাস্তা নষ্ট হয়ে যায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন দোকানী জানান, দয়াল বাজার মোড়ের বড় মিষ্টির দোকানদার কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই প্রায় ৩০-৪০ ফুট রাস্তার মাঝ দিয়ে গর্ত করে দোকানের জন্য পানির পাইপ দিয়ে দিছে। এছাড়াও যার যখন মন চায় নিজের প্রয়োজনে রাস্তা খুঁড়ে।
পঞ্চসার ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ কবির হোসেন জানান, এই রোডের কাজটি আমাদের আওতাধীন নয়। তবু আমরা কাজটির বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এ
লজিআরডি অফিসকে অবগত করেছি। ইতিমধ্যে খবর পেয়েছি ১ কোটি সওর লাখ টাকায় কাজটি পাশ হয়েছে। টেন্ডারের অপক্ষায় রয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ উপজেলা এলজিআরডি উপ-সহকারী প্রকৌশলী সবুজ কুমার মিত্র জানান, এ রাস্তার টেন্ডার হয়েছে, খুব দ্রুত কাজ শুরু হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান জানান, সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় ও এ পথে যাতায়াতকারীদের প্রত্যাশা খুব দ্রুতই যেন রাস্তাটি মেরামত করে জন সাধারণ ভোগান্তি দূর করা হয়।

