Nabadhara
ঢাকাসোমবার , ১২ জানুয়ারি ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জেলার সংবাদ
  11. ঢাকা বিভাগ
  12. তথ্যপ্রযুক্তি
  13. ধর্ম
  14. প্রধান সংবাদ
  15. ফিচার
আজকের সর্বশেষ সবখবর

তিন যুগেও পিছু ছাড়েনি অপবাদ, মনোনয়ন বিড়ম্বনায় জাপার খুলনা রাজনীতি

রাসেল আহমেদ, খুলনা প্রতিনিধি 
জানুয়ারি ১২, ২০২৬ ৩:৩৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

রাসেল আহমেদ, খুলনা প্রতিনিধি 

নব্বইয়ের ৬ ডিসেম্বর গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা হারানোর পর কেটে গেছে তিন দশক। সময়ের ব্যবধানে রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলালেও জাতীয় পার্টির (জাপা) পিছু ছাড়েনি সংকট ও বিতর্ক। ‘স্বৈরাচার ও স্বৈরাচারের দোসর’—এই অপবাদ আজও দলটির রাজনীতিতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এরই ধারাবাহিকতায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন সংক্রান্ত জটিলতায় নতুন করে বিড়ম্বনায় পড়েছে খুলনার জাপা রাজনীতি।

১৯৮৬ সালে আত্মপ্রকাশের পর সে বছরের ৭ মে এবং ১৯৮৮ সালের ৩ মে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে খুলনাসহ বিভিন্ন এলাকায় সম্মানজনক অবস্থান ছিল জাতীয় পার্টির। সে সময় বর্ষীয়ান রাজনীতিক অ্যাডভোকেট মোমিন উদ্দিন আহমেদ, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) এইচ এম এ গফ্ফার বীর উত্তম, এস এম বাবর আলী, ডা. মুনসুর আলী, মিয়া মুসা হোসেন, অধ্যাপিকা হাসিনা বানু শিরিন, শেখ আবুল কাশেম ইঞ্জিনিয়ার ও এস এম এ রবের নেতৃত্বে দলটির সাংগঠনিক ভিত ছিল শক্ত। তবে সময়ের পরিক্রমায় এই নেতারা একে একে দল ও পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন।

১৯৯১ সালের পর খুলনা-৬ আসন ছাড়া অন্য কোনো আসনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করতে পারেনি দলটি। ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনার কোনো আসন ছাড় দেয়নি তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর খুলনা শহরের ডাকবাংলো মোড়ে অবস্থিত জাপার দলীয় কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। সে সময় রাজপথে ‘আপা গেছে যে পথে, জাপা যাবে সে পথে’—এমন স্লোগান শোনা যায়।

কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মামলা না করলেও সাংগঠনিক কার্যক্রম চালু রাখে জাতীয় পার্টি। নিয়মিত পালন করা হয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও বিভিন্ন জাতীয় দিবস। তবে বিএনপি চেয়ারপারসনের মৃত্যুর প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় চলতি বছরের ১ জানুয়ারি দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি থেকে বিরত থাকে জেলা ও নগর শাখা।

এমন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও গেল মাসে কেন্দ্রীয়ভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী আহ্বান জানায় দলটি। কোনো শর্ত ছাড়াই খুলনা-১ আসনে কেন্দ্রীয় সদস্য মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, খুলনা-২ আসনে জেলা সভাপতি শফিকুল ইসলাম মধু, খুলনা-৩ আসনে নগর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, খুলনা-৪ আসনে জেলা সহ-সভাপতি ডা. সৈয়দ আবুল কাশেম, খুলনা-৫ আসনে নগর সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আরা পারভীন ও কেন্দ্রীয় সদস্য মো. মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর এবং খুলনা-৬ আসনে প্রার্থী মনোনীত করা হয়।

তবে খুলনা-২ ও ৪ আসনের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র দাখিল করেননি। খুলনা-২ আসনে জেলা সভাপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আগ্রহ দেখাননি। আর খুলনা-৪ আসনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দিতে ব্যর্থ হন প্রার্থী। অন্যদিকে শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণসহ বিভিন্ন কারণে খুলনা-৫ ও ৬ আসনের প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যায়। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা জোরালো আপত্তি তুলতেও পারেননি।

এ বিষয়ে নগর জাতীয় পার্টির সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচনে অংশগ্রহণের মতো পরিবেশ নেই। কালো টাকার প্রভাব সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসনও বড় দলগুলোকে নানাভাবে সহযোগিতা করছে।” তিনি আরও বলেন, “গত তিন দশকে জনসমর্থন কিছুটা বাড়লেও ‘স্বৈরাচারের দোসর’ অপবাদ এখনো আমাদের পিছু ছাড়ছে না। বছরের শুরুতে প্রতিপক্ষরা পুরনো এই অভিযোগই নতুন করে গণমাধ্যমে তুলে ধরে।”

সব মিলিয়ে তিন যুগ পেরিয়েও অপবাদ, সাংগঠনিক সংকট ও নির্বাচনী বিড়ম্বনায় পড়ে খুলনায় জাতীয় পার্টির রাজনীতি যেন আবারও কঠিন এক পরীক্ষার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।