Nabadhara
ঢাকামঙ্গলবার , ২০ জানুয়ারি ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জেলার সংবাদ
  11. ঢাকা বিভাগ
  12. তথ্যপ্রযুক্তি
  13. ধর্ম
  14. প্রধান সংবাদ
  15. ফিচার
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জয়পুরহাটের কুমড়ো বড়ি যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়

জয়পুরহাট প্রতিনিধি
জানুয়ারি ২০, ২০২৬ ৩:৩০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

জয়পুরহাট প্রতিনিধি

সুস্বাদু ও উন্নতমানের হওয়ায় জয়পুরহাটের ঐতিহ্যবাহী কুমড়ো বড়ি এখন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ব্যাপকভাবে বাজারজাত হচ্ছে। জয়পুরহাট শহরের শান্তিনগর এলাকার তাঁতিপাড়া গ্রামটি কুমড়ো বড়ি উৎপাদনের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। এ গ্রামের প্রায় প্রতিটি পরিবার—নারী-পুরুষ নির্বিশেষে—এই বড়ি তৈরির সঙ্গে যুক্ত।

একসময় পারিবারিক প্রয়োজন মেটানোর জন্য তৈরি করা হলেও বর্তমানে কুমড়ো বড়ি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত হচ্ছে। এতে করে তাঁতিপাড়া গ্রামের শ্রমজীবী মানুষের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে কুমড়ো বড়ি। বছরে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাস বড়ি তৈরি করে সারা বছরের সংসার চালান এখানকার মানুষজন।

বড়ি প্রস্তুতকারকদের তথ্যমতে, তাঁতিপাড়া গ্রামে প্রতি মাসে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকার কুমড়ো বড়ি বিক্রি হয়। মাষকলাই ও চাল কুমড়া দিয়ে তৈরি এই বড়ি উত্তরাঞ্চলের মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। শীতকালেই মূলত কুমড়ো বড়ি তৈরির ধুম পড়ে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাসহ চট্টগ্রাম, নওগাঁ, দিনাজপুর, গাইবান্ধা, পার্বতীপুর ও নীলফামারীসহ দেশের বিভিন্ন জেলার পাইকাররা এসে এখান থেকে বড়ি সংগ্রহ করেন।

শত বছরের ঐতিহ্য ধরে রেখে পূর্বপুরুষদের পেশা হিসেবে কুমড়ো বড়ি তৈরি করছেন তাঁতিপাড়া গ্রামের বাসিন্দারা। শীত মৌসুমে গ্রামের প্রবেশমুখ থেকেই চোখে পড়ে চাটাই ও মাচার ওপর সারি সারি করে বিছানো সাদা বড়ি। গ্রামের ভেতরে বাড়ির ছাদে, উঠানে কিংবা খোলা জায়গায় দল বেঁধে বড়ি তৈরিতে ব্যস্ত থাকেন গৃহিণীরা। এ কাজে নারীদের অংশগ্রহণ বেশি হলেও পুরুষরাও মাষকলাই ভাঙা, মেশিনে গুঁড়ো করা ও বাজারজাতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। এমনকি পরিবারের শিশুরাও বড়ি তৈরিতে সহায়তা করে।

তাঁতিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মানিক চন্দ্র বলেন, এ গ্রামে প্রায় ৬০ থেকে ৭০টি পরিবার কুমড়ো বড়ি তৈরির সঙ্গে জড়িত। প্রতিটি পরিবার প্রতি মাসে গড়ে ২০০ থেকে ৩০০ কেজি বড়ি তৈরি করে। আশ্বিন মাস থেকে শুরু হয়ে চৈত্র মাস পর্যন্ত বড়ি তৈরির কাজ চলে।

বড়ি প্রস্তুতকারক শ্যামলী মহন্ত জানান, শীত মৌসুমে প্রতিদিন ভোর থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত বড়ি বানানোর কাজ করা হয়। প্রথমে মাষকলাই রোদে শুকিয়ে যাঁতায় বা মেশিনে ভেঙে খোসা ছাড়ানো হয়। এরপর কয়েক ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে চাল কুমড়া বেটে মিশ্রণ তৈরি করে বড়ি বানানো হয়। পরে বাঁশের মাচায় বা কাপড়ে সাজিয়ে রোদে শুকাতে অন্তত তিন দিন সময় লাগে।

একই গ্রামের ডলি রানী বলেন, সংসারের কাজের পাশাপাশি প্রায় ২০ বছর ধরে কুমড়ো বড়ি তৈরি করছেন তিনি। প্রতিদিন গড়ে ১০ কেজি বড়ি তৈরি করেন। তার স্বামী এসব বড়ি বাজারে বিক্রি করেন। বড়ি বিক্রির আয়ে সংসারের উন্নতি হয়েছে এবং সন্তানদের পড়াশোনার খরচও চালানো সম্ভব হচ্ছে।

কারিগররা জানান, বর্তমানে মাষকলাইয়ের দাম কেজিপ্রতি ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকা এবং চাল কুমড়ার দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকা। দুই ধরনের বড়ি তৈরি হয়—সাধারণ ও উন্নত মানের। সাধারণ বড়ি পাইকারিতে কেজিপ্রতি ৩০০ টাকা এবং উন্নত মানের বড়ি ৪০০ টাকায় বিক্রি হয়। খুচরা বাজারে সাধারণ বড়ির দাম ৩৫০ টাকা এবং ভালো মানের বড়ির দাম ৪৫০ টাকা কেজি।

কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মোঃ মেহেদী হাসান জানান, কুমড়ো বড়ির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এটি একদিকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে, অন্যদিকে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ. কে. এম. সাদিকুল ইসলাম বলেন, মাষকলাই ও চাল কুমড়া উভয়ই পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। এসব উপাদানে তৈরি কুমড়ো বড়ি একটি সুস্বাদু ও পুষ্টিকর খাবার হিসেবে মানুষের খাদ্যতালিকায় বিশেষ স্থান করে নিয়েছে।

সব মিলিয়ে, জয়পুরহাটের ঐতিহ্যবাহী কুমড়ো বড়ি এখন শুধু গ্রামীণ খাবার নয়, বরং দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষের কাছে একটি জনপ্রিয় ও পুষ্টিকর খাদ্যপণ্যে পরিণত হয়েছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।