Nabadhara
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২২ জানুয়ারি ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জেলার সংবাদ
  11. ঢাকা বিভাগ
  12. তথ্যপ্রযুক্তি
  13. ধর্ম
  14. প্রধান সংবাদ
  15. ফিচার
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বোর্ডের নির্দেশনা ছাড়াই কেন্দুয়ায় টেস্টে অকৃতকার্যদের এসএসসি ফরম পূরণে বিভ্রান্তি ও বিতর্ক

Link Copied!

মাঈন উদ্দিন সরকার রয়েল,কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

‎নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়ায় টেস্ট পরিক্ষায় ফেল করায় এস এসসি পরিক্ষার ফরম ফিলাপে ভিন্ন নীতি: প্রধান শিক্ষকদের স্বেচ্ছাচার নাকি বোর্ড নির্দেশনা—এ নিয়ে তীব্র বিভ্রান্তি ও বিতর্ক।

নির্বাচনী পরিক্ষায় এক বিষয়ে ফেল করলে এস এস সি পরীক্ষার ফরম পূরণের সুযোগ নেই বলা হলেও তিন বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের ফরম ফিলাপ করানোয়  প্রশ্নের মুখে কেন্দুয়া উপজেলার  বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ।

‎সরেজমিনে অনুসন্ধান করে জানা গেছে,নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার সায়মা শাহজাহান একাডেমি,সাবেরুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্বাচনি পরিক্ষায় অকৃতকার্যদের এসএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরী হয়েছে।

একদিকে শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনার কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করেই দেওয়া হয়েছে ফরম পূরণের সুযোগ—যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবক, সচেতন মহল ও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা।

‎সায়মা শাহজাহান একাডেমির  প্রধান শিক্ষক শহীদুল ইসলাম দাবি করেন,“শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী টেস্ট পরীক্ষায় এক বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীকে ফরম ফিলাপের সুযোগ দেওয়ার নিয়ম নেই।

”তবে এই বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক অবস্থায় নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়, যখন প্রধান শিক্ষক শহীদুল ইসলাম নিজেই স্বীকার করেন—“আমি সহ আরও কয়েকজন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একসাথে বসে সিদ্ধান্ত নিয়ে তিন বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ফরম ফিলাপের সুযোগ দিয়েছি।”

‎কেন্দুয়া সাবেরুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুখলেছুর রহমান বাঙ্গালী জানান,বোর্ডের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা নেই। আমার বিশেষ বিবেচনায় নির্বাচনি পরিক্ষায় তিন বিষয়ে অকৃতকার্যদের ফরম ফিলাপের সুযোগ দিয়েছি। এটা আমাদের সিদ্বান্ত অনুযায়ী করেছি।

‎তিন বিষয়ে সুযোগ দিতে পারলে চার বিষয়ে কেন দেন নি এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছন আমরা বিভিন্ন বিষয় বিবেচনাপূর্বক তিন বিষয় পর্যন্তই নিয়েছি। এই বক্তব্যের পরই প্রশ্ন উঠেছে সিদ্ধান্তের নৈতিকতা ও বৈধতা নিয়ে।

‎সায়মা শাহজাহান একাডেমির ম্যানেজিং কমিটির এক অভিভাবক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,যেখানে নির্বাচনি পরিক্ষায় এক বিষয়ে ফেল করলেই ফরম ফিলাপের সুযোগ নেই। সেখানে “যদি প্রধান শিক্ষকরা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিয়ে তিন বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের সুযোগ দিতে পারেন, তাহলে চার বা পাঁচ বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীরা কী অপরাধ করেছে? এখানে স্পষ্ট বৈষম্য করা হচ্ছে।”

‎সচেতন মহলের মতে, বোর্ডের লিখিত নির্দেশনা ছাড়া প্রধান শিক্ষকদের এমন সিদ্ধান্ত শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।

‎কেন্দুয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো:শফিকুল ইসলাম বারি জানান, শিক্ষা বোর্ডের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা হল-এস এস সি পরীক্ষার ফরম পূরণ শুধুমাত্র তারাই করতে পারবে যারা নির্বাচনী পরিক্ষায় পাশ করেছে।

কোন প্রতিষ্ঠানে যদি নির্বাচনি পরিক্ষায় ফেল করা শিক্ষার্থীদের এস এস সি ফরম পূরণের সুযোগ দেওয়া হয় তার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষক দায়ী। অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের অনৈতিকভাবে ফরম পূরণের সুযোগ দেওয়া শিক্ষা বোর্ডের আইনগতভাবে বৈধ নয়। এর দায় সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষককেই নিতে হবে।

‎এ বিষয়ে সায়মা শাহজাহান একাডেমির সভাপতি ও কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাতুল ইসলাম জানান, আমার অবস্থান হচ্ছে ১ সাবজেক্টে অকৃতকার্য হলেও যেনো ফরম ফিলাপের সুযোগ না দেওয়া হয়। আমি দুইটা স্কুলে সেটা নিশ্চিত করেছি। তারপরেও তারা কীভাবে ফরম ফিলাপ করলো সেটা আমি খোঁজ নিয়ে দেখবো।

‎এ বিষয়ে নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমান জানান, টেস্টে অকৃতকার্যদের ফরম পূরণের বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডের  নির্দেশনা নেই।  কেন্দুয়া উপজেলায় কোন কোন প্রধান শিক্ষক কে কি বলেছে বা করেছে আমার জানা নেই। বিষয়টি  দেখবো।

‎এছাড়াও সংশ্লিট শিক্ষা দপ্তরের ময়মনসিংহ বিভাগের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেছেন,কেন্দুয়া উপজেলার এ বিষয়টি আমার জানা নেই।  এ“বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

‎অন্যদিকে, শিক্ষা বোর্ডের একজন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‎“টেস্ট পরীক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন। বোর্ড পরীক্ষার ফরম ফিলাপের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশনই মূল বিষয়।  বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”

‎একই উপজেলায়, একই পরীক্ষার ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈষম্য সৃষ্টি হওয়ায় এখন প্রশ্ন উঠেছে—শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা আসলে কী, নাকি মাঠপর্যায়ে চলছে নিজস্ব ব্যাখ্যা ও স্বেচ্ছাচার? সচেতন মহল অবিলম্বে শিক্ষা বোর্ডের লিখিত ও সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রকাশ এবং জেলা প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।