Nabadhara
ঢাকাশুক্রবার , ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জেলার সংবাদ
  11. ঢাকা বিভাগ
  12. তথ্যপ্রযুক্তি
  13. ধর্ম
  14. প্রধান সংবাদ
  15. ফিচার
আজকের সর্বশেষ সবখবর

১৯ মাস পর স্বীকারোক্তিতে সুমনের কঙ্কাল উদ্ধার

ওমর ফারুক, আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি
জানুয়ারি ২৩, ২০২৬ ৮:৪৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ওমর ফারুক, আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি

নওগাঁ জেলা পুলিশের এক বড় সাফল্যে দীর্ঘ ১৯ মাস পর উদঘাটিত হলো আত্রাই থানার চাঞ্চল্যকর সুমন (৩৯) হত্যার রহস্য।

পুলিশ সুপারের সরাসরি তত্ত্বাবধানে নিবিড় তদন্তের মাধ্যমে মামলার প্রধান আসামি শাফিউলকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী একটি পানির ডোবা থেকে ভিকটিমের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছে।

​২০২৪ সালের ২০ জুন রাত আনুমানিক পৌনে ১২টার দিকে আত্রাই উপজেলার কয়সা গ্রামের মো. শাহাদাত হোসেনের ছেলে সুমন বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি।পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি করে তাকে না পেয়ে ২২ জুন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরবর্তীতে বাড়ির পাশে ইটের টুকরোয় রক্ত লেগে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

পুলিশ ওই রক্তের ডিএনএ পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয় যে সেটি সুমনেরই রক্ত। এই ঘটনায় সুমনের স্ত্রী বাদী হয়ে আত্রাই থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও মামলার কোনো কূলকিনারা পাচ্ছিল না পুলিশ।

​নিহত সুমনের পরিবার ও আত্মীয়স্বজন সম্প্রতি নওগাঁর পুলিশ সুপারের সাথে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখার অনুরোধ জানান।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম মামলার ডকেট পর্যালোচনা করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম), আত্রাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবং তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নতুন উদ্যমে তদন্তের নির্দেশনা দেন।

​আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) ব্যবহার করে সন্দেহভাজন আসামি শাফিউলকে শনাক্ত ও আটক করা হয়। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে শাফিউল সুমনকে হত্যার কথা স্বীকার করে।

​ভিকটিম সুমন তার (শাফিউলের) স্ত্রীকে কুপ্রস্তাব প্রদান এবং হাত ধরার কারণে সে ক্ষিপ্ত ছিল। ​পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ২২ জুন শাফিউলের ছোট ভাই সায়েম সুমনকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে আসে। ​গভীর রাতে নির্জন রাস্তায় মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে সুমনকে হত্যা করা হয়। ​হত্যার পর লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে দুই ভাই মিলে পাশের একটি নিচু জায়গায় মাটি চাপা দেয়। ​উল্লেখ্য যে, শাফিউলের ভাই ও এই হত্যাকাণ্ডের সহযোগী সায়েম কয়েক মাস আগে আত্মহত্যা করেছেন।

​আসামি শাফিউলের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, আজ বিকেলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে কয়সা গ্রামের রমজানের পুকুর সংলগ্ন একটি ডোবা সেচে হতভাগা সুমনের হাড়গোড় ও বিচ্ছিন্ন কঙ্কাল উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা দেখতে এলাকায় বিপুল সংখ্যক মানুষ ভিড় জমায়।

​এ প্রসঙ্গে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, নওগাঁ জেলা পুলিশ যেকোনো অপরাধ উদঘাটন এবং অপরাধী দমনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। দীর্ঘ ১৯ মাস পর হলেও প্রযুক্তি ও সঠিক দিকনির্দেশনার মাধ্যমে আমরা এই হত্যার রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হয়েছি।

এ বিষয়ে আত্রাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল করিম বলেন, মামলাটি অত্যন্ত জটিল ছিল এবং দীর্ঘ সময় কোনো ক্লু পাওয়া যাচ্ছিল না। কিন্তু আমরা হাল ছাড়িনি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দিকনির্দেশনায় এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা মূল ঘাতককে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছি। আসামির দেখানো স্থান থেকে নিহতের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। অপরাধী যে-ই হোক, পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।