সাইফুল ইসলাম, বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল–৩ (বাবুগঞ্জ–মুলাদী) আসনে তৈরি হয়েছে ব্যতিক্রমী এক নির্বাচনি সমীকরণ। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক তিনবারের সংসদ সদস্য ও বর্তমানে কারাবন্দি একজন প্রার্থী। ফলে ‘কারাগার বনাম মাঠ’—এই ভিন্নধর্মী লড়াই স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
কারাবন্দি এই প্রার্থী হলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব গোলাম কিবরিয়া টিপু। জাতীয় পার্টি মনোনীত লাঙ্গল প্রতীকের এই প্রার্থী বর্তমানে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
দাখিলকৃত হলফনামা অনুযায়ী, গত ৫ আগস্টের পর তার বিরুদ্ধে মোট ১১টি মামলা রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচনের আগে জামিন না পেলে সমর্থক ও আত্মীয়স্বজনই তার পক্ষে মাঠে সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাবেন। তাদের প্রত্যাশা, কারাবন্দি প্রার্থীর প্রতি সাধারণ মানুষের সহানুভূতি ভোটের ফলাফলে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
প্রসঙ্গত, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে প্রাথমিকভাবে তার প্রার্থিতা স্থগিত করা হলেও পরবর্তীতে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার যাচাইয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়—গোলাম কিবরিয়া টিপুর কোনো দ্বৈত নাগরিকত্ব নেই। ফলে তার প্রার্থিতা পুনরায় বৈধতা পায় এবং জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জামিনে মুক্তি না পেলেও টিপু কারাগার থেকেই নির্বাচনি লড়াইয়ের নেতৃত্ব দেবেন।
নির্বাচনি আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি ফৌজদারি মামলায় ন্যূনতম দুই বছর বা তদূর্ধ্ব সাজাপ্রাপ্ত না হন, তাহলে নির্বাচনে অংশগ্রহণে আইনগত কোনো বাধা থাকে না। সেই আইনগত সুযোগেই বিচারাধীন মামলায় বন্দি অবস্থাতেও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন গোলাম কিবরিয়া টিপু।
এ বিষয়ে বরিশাল জেলার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. খাইরুল আলম সুমন বলেন,“মনোনয়নপত্র সংক্রান্ত সব বিষয় নির্বাচন আইন অনুযায়ী যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশাল–৩ আসনে একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থীর পাশাপাশি একজন কারাবন্দি প্রার্থীর অংশগ্রহণ এবারের নির্বাচনকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। বিষয়টি এখন ভোটারদের আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
এদিকে টিপুর একমাত্র কন্যা হাবিবা কিবরিয়া বলেন,“বিনা অপরাধে আমার বাবাকে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাগারে থাকতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তারপরও বাবার পক্ষে আমরা মাঠে প্রান্ত থেকে প্রান্তে ছুটে বেড়াচ্ছি। জনগণের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। ইনশাল্লাহ জনগণের ভালোবাসায় বিপুল ভোটে বিজয়ী করে বাবাকে কারাগার থেকেই মুক্ত করে আনব।”
কারাগারের ভেতর থেকেও একটি সংসদীয় আসনের ভোটের লড়াই—বরিশাল–৩ আসনের এই নির্বাচন যে এবারের জাতীয় রাজনীতিতে আলাদা নজির সৃষ্টি করতে যাচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।

