স্টাফ রির্পোটার,ভোলা
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী–সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আজ শনিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার টবগী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদার বাড়ির দরজার সামনে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে টবগী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা–কর্মীরা দাঁড়িপাল্লার পক্ষে প্রচারপত্র বিতরণ ও প্রচারণা শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁরা চৌকিদার বাড়ি এলাকায় প্রবেশ করলে সেখানে অবস্থানরত বিএনপির কর্মীদের সঙ্গে কথা–কাটাকাটি হয়। মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষের সময় লাঠিসোঁটা, কোদাল ও দেশি অস্ত্র ব্যবহার করা হয়।
সংঘর্ষে জামায়াতের টবগী ইউনিয়ন আমির আবদুল হালিম এবং কর্মী মো. ফয়জুল্লাহ, মো. ইমন, মো. শাহে আলম, মো. রায়হান, মো. শামীম, মো. তানজিলসহ ১০ জন আহত হন। আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে গুরুতর আহত আবদুল হালিম ও ফয়জুল্লাহকে ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এ ঘটনায় তাঁদের অন্তত পাঁচ কর্মী আহত হয়েছেন। বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, সকালবেলা স্থানীয় কিছু নারী পুকুরে গোসল করছিলেন। এ সময় জামায়াতের প্রচার দল একটি বাড়িতে প্রবেশ করলে বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানানো হয়। একপর্যায়ে জামায়াতের নেতা–কর্মীরাই উসকানিমূলক আচরণ করলে সংঘর্ষ বাধে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে বোরহানউদ্দিন থানা–পুলিশ ও নৌবাহিনীর একটি দল পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও পুরো এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মন বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পাঠানো হয়েছে এবং তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।
দুপুরে উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে জামায়াত নেতা মোহাম্মদ মাকসুদুর রহমান অভিযোগ করেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়ও তাঁদের নেতা–কর্মীদের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
তবে বিএনপির নেতারা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব কাজী মো. আজম বলেন, জামায়াতের নেতা–কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে বিএনপির সমর্থকদের বাড়ি এসে হুমকি দিয়ে ভোট চাইলে প্রতিবাদ জানানো হয়। সেই প্রতিবাদে জামায়াত নেতারা ভাঙচুর করেন।
বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, এ বিষয়ে এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

