ভরিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
পিরোজপুর–২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদ হোসেন বলেছেন, তিনি হামলা–মামলার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নন; মানুষের সেবাই তাঁর রাজনীতির মূল লক্ষ্য। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় ভাণ্ডারিয়া হাসপাতাল মাঠে ঘোড়া প্রতীকের নির্বাচনী শেষ জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহমুদ হোসেন বলেন, ১৯৭৩ সাল থেকে তাঁর পরিবারে এমপি–মন্ত্রী থাকলেও কখনো ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়নি। ভাণ্ডারিয়ার কাউকে হামলা বা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়নি এবং প্রতিহিংসার রাজনীতি তাদের পারিবারিক আদর্শের পরিপন্থী। তিনি বলেন, “আমরা ভাণ্ডারিয়ার মানুষের কাছে শুধু ভালোবাসা ও দোয়া চাই। আপনাদের দোয়া আর ভালোবাসা নিয়েই সারা জীবন সেবায় নিয়োজিত থাকতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, তাঁর মা সবসময় দোয়া করতেন যেন তাঁর সন্তানরা গরিব–দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারে। মাহমুদ হোসেন দাবি করেন, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু টানা আটবার নির্বাচিত হয়ে প্রায় চার দশক ভাণ্ডারিয়া, কাউখালী ও নেছারাবাদের মানুষের জন্য কাজ করেছেন এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ অঞ্চলের উন্নয়নে তাঁর অবদান রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পারিবারিক ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে মাহমুদ হোসেন বলেন, তাঁর বাবা ভাণ্ডারিয়ায় বাংলাদেশের প্রথম চেয়ারম্যান ছিলেন এবং ১৯৭৩ সালে তাঁর বড় ভাই ব্যারিস্টার মাইনুল হোসেন ভাণ্ডারিয়া–কাঠালিয়া থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে বাকশালের বিরুদ্ধে সংসদে প্রতিবাদ জানিয়ে পদত্যাগ করেছিলেন। “ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও আমরা কখনো মানুষের সঙ্গে জোরে কথা বলিনি—এটাই আমাদের পারিবারিক শিক্ষা,” বলেন তিনি।
এলাকার সামাজিক অবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তন ফিরিয়ে আনার আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, জনগণ তাঁর হাত শক্তিশালী করলে তিনি উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। একই সঙ্গে আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে উন্নয়ন ও শান্তিপূর্ণ রাজনীতির স্বার্থে যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচিত করার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট শিল্পপতি আলহাজ জাকির হোসেন নিজাম মিয়া। এ সময় আরও বক্তব্য দেন ভাণ্ডারিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন সরদার, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. রুস্তম আলী খান, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা শরীফ, উপজেলা যুব সংহতির সভাপতি মামুনুর রশিদ, ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক মাহফুজুর ইসলাম উজ্জ্বল, উপজেলা রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি বাহাদুর সরদার ও ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়ন জেপির সভাপতি রেজা আহমেদ দুলাল প্রমুখ।

