জামালপুর প্রতিনিধি
জামালপুরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ চলছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারী) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের লাইনে দাড়িয়ে সুশৃঙ্খলভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে দেখা গেছে। দুপুর পর্যন্ত গড়ে ২৫ শতাংশ ভোট পড়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় ভোটারদের দীর্ঘ সারি। ভোটাররা ব্যাপক উৎসাহ, উদ্দীপনা ও উৎসবমূখর আমেজে ভোট দিতে আসছেন। পুরুষের পাশাপাশি নারী ভোটারদের উপস্থিতিও ছিলো বেশ চোখে পড়ার মত। তবে এখন পর্যন্ত কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। দুপুর পর্যন্ত জামালপুর পৌর এলাকায় দেউড়পাড় চন্দ্রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বগাবাইদ উচ্চ বিদ্যালয়, আজাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শহীদ জিয়াউর রহমান ডিগ্রী কলেজ ও সিংহজানী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রগুলোতে দেখা গেছে প্রতিটি কেন্দ্রেই ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ভোট পড়েছে। তবে সকালের দিকে এসব ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের ভীড় দেখা গেলেও দুপুরের দিকে ভোটার উপস্থিতি কিছুর কমে আসে। জামালপুর পৌর এলাকায় দেউড়পাড় চন্দ্রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে সকাল থেকেই ছিল ভোটারদের দীর্ঘ সারি। তবে, পৌর এলাকার আজাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ব্যাপক ভোটার উপস্থিতি থাকলেও ভোটগ্রহণে কিছুটা ধীর গতি দেখা গেছে। দুপুরের দিকে সিংহজানী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে নারী ভোটারদের বেশ উপস্থিতি থাকলেও থাকলেও পুরুষ ভোটারের উপস্থিতি ছিলো কম।
তরুণ ভোটার শাহরিয়ার বায়েজিদ (২৪) জানান, গত ২০১৮ সালে প্রথম ভোটার হিসেবে ভোট দিতে এসেছিলাম। কিন্তু আমাকে আমার ভোট দিতে দেয়া হয়নি। গত ২৪ এর নির্বাচনেও ভোট দিতে পারিনি। এবারই প্রথম ভোট দিয়েছি। আমার খুবই আনন্দ হচ্ছে।
নারী ভোটার লাবনী আজাদ (৩৫) জানান, আমি ভোটার হওয়ার পর কখনও ভোট দেইনি। আজ প্রথম ভোট দিতে এসেছি। নির্বাচনের পরিবেশ খুবই ভালো।
জেলার ৫টি সংসদীয় আসনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলনসহ বিভিন্ন দলের ও স্বতন্ত্রসহ মোট ৩৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দীতা করছেন। এবারের নির্বাচনে মোট ২১ লাখ ৩৫ হাজার ৯৮ জন জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১০ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৭ জন, মহিলা ভোটার ১০ লাখ ৬৬ হাজার ৮৮১ জন ও হিজড়া ভোটার ২০ জন। ৫টি সংসদীয় আসনে ৩৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ১৫ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচনের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ৫টি নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি কাজ করছে। পুরো জেলায় ১ হাজার ৬৫০ জন পুলিশ সদস্য, ১৬ প্লাটুন বিজিবি সদস্য ও র্যাবের ৬টি টহল টিম ও ১টি রিজার্ভ টহল টিম মোতায়েন রয়েছে। ৫টি উপজেলায় ৬শতাধিক সেনাসদস্য স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মোতায়েনে রয়েছে। এছাড়াও প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে ১৩ জন করে ৮ হাজারের বেশী আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছে। সকাল সাড়ে ৭টায় শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে।
জেলা নির্বাচন কমকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক জানান, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। ভোটগ্রহণ চলাকালীন কোথাও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়। সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত গড়ে ২৫ শতাংশ ভোট পড়েছে।

