হাতিয়া(নোয়াখালী) প্রতিনিধি
নোয়াখালী–৬ (হাতিয়া) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও এনসিপির লোকজনের সমন্বয়ে ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকদের মারধর করে আহত করার অভিযোগে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ মাহবুবের রহমান শামীম।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে হাতিয়া উপজেলার ধানসিঁড়ি রেস্ট হাউজে এ সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় আহত কয়েকজন ব্যক্তি ও ভুক্তভোগী বিএনপি নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ মাহবুবের রহমান শামীম অভিযোগ করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের রাত এবং ভোটের দিন হাতিয়ার প্রতিটি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি (এনসিপি)-এর লোকজন যৌথভাবে ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়েছে।
তিনি বলেন, আমি আগেই বলেছিলাম নির্বাচন হবে উৎসবমুখর পরিবেশে, কোনো বিশৃঙ্খলা হতে দেওয়া যাবে না। কিন্তু উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড এবং শাপলা কলি প্রতীকের সমর্থকরা একযোগে হরনী, চানন্দী, বুড়িরচর, জাহাজমারা, নিঝুম দ্বীপ ও সুখচর এলাকায় আমাদের নেতাকর্মীদের মারধর করে আহত করেছে। ভোটের দিন তাদের রাস্তায় দাঁড়াতেও দেওয়া হয়নি, ফলে ভোট প্রদানে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হাতিয়ায় দায়িত্বরত নৌ-কন্টিনজেন্ট কমান্ডার আলী হায়দারের কর্মকাণ্ডে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ পরিলক্ষিত হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত দুই দিনে বিএনপির দুই শতাধিক কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন। আহতদের অনেকে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মাহবুবের রহমান শামীম আরও বলেন, হাতিয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের রহমানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটের দিন নৌবাহিনীর সদস্যরা তার সঙ্গেও অকারণে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আজও সুখচর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় হামলার অভিযোগ তুলে হাতিয়ার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নোয়াখালী জেলা প্রশাসনের জরুরি সহযোগিতা কামনা করেন।
এ সময় ভুক্তভোগীদের পক্ষে বক্তব্য দেন হাতিয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ফারজানা। তিনি বলেন, ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার কারণে এনসিপির লোকজন আমার স্বামী ইসমাইলকে মারার জন্য ধাওয়া করেছে। ভয়ে সে এখন বাড়িতে থাকতে পারছে না। আমাদের ঘরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হচ্ছে।
উপজেলা বিএনপি নেতা লুৎফুল্লাহিল নিশান অভিযোগ করে বলেন, ভোটের আগেরদিন রাতে নৌবাহিনীর সদস্যরা জাহাজমারায় তার বাড়িতে গিয়ে তাকে ও তার ছেলেমেয়েদের নানাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছে।
জাহাজমারা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহরাজ অভিযোগ করেন, ওই দিন নৌবাহিনীর সদস্যরা তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে।
তমরোদ্দি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তানবীর হায়দার বলেন, নৌবাহিনী তার বাড়িতে গিয়ে তাকে ও তার সন্তানদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছে।
উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইসমাইল হোসেন ইলিয়াস অভিযোগ করেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে একাধিকবার অভিযোগ দিলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে সুখচর ইউনিয়নে এনসিপির ফরিদ ওরফে ফরিদ বাহিনী এখনও বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে।
এদিকে, হাতিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলাউদ্দিনও সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রেখে নির্বাচনকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও এনসিপির সমন্বয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর বিভিন্ন স্থানে হামলার অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, পরিকল্পিতভাবে বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের ভয়ভীতি ও শারীরিক নির্যাতনের মাধ্যমে ভোটের মাঠ থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, চানন্দী ইউনিয়নের যুবদল নেতা জসিম উদ্দিন, নিঝুম দ্বীপে মোতালেব, ইউনিয়ন ছাত্রদল আহ্বায়ক সমিরসহ বিএনপি কর্মী দিলাল, বাদশা ও আরিফ হামলায় আহত হয়েছেন।
এছাড়া পৌরসভা এলাকায় ফখরুলসহ প্রায় দুই শতাধিক বিএনপি নেতাকর্মীকে মারধর করে আহত করার অভিযোগ করা হয়।
পরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, এনসিপির পক্ষ থেকে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমাদের ভুক্তভোগীরা আজ আপনাদের সামনেই উপস্থিত রয়েছেন—এটাই তার প্রমাণ।
অভিযোগের বিষয়ে হাতিয়ায় দায়িত্বরত নৌ-কন্টিনজেন্ট কমান্ডার আলী হায়দার বলেন, বিএনপি প্রার্থী যদি অভিযোগ করেন, সেটা তাদের বিষয়। এ বিষয়ে আমরা কোনো মন্তব্য করতে পারি না। আইএসপিআর এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে পারবেন।
অপরদিকে, কোস্ট গার্ড হাতিয়া স্টেশনের মিডিয়া কর্মকর্তা জানান, এ বিষয়ে তাদের পক্ষ থেকেও কোনো মন্তব্য করার সুযোগ নেই।

