খুলনা প্রতিনিধি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনে ঘটেছে আলোচিত এক ফলাফল। দীর্ঘদিনের বিজয়ী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু এবার পরাজিত হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতা শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল-এর কাছে। খুলনা নগরের কোনো আসনে জামায়াতের জন্য এটিই প্রথম বিজয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নজরুল ইসলাম মঞ্জু বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। নির্বাচনের আগে অনেক বিশ্লেষক তাকে এগিয়ে রাখলেও শেষ পর্যন্ত হেলালের জোরালো প্রচারণা ও বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভাজন ফলাফল পাল্টে দেয়।
ঐতিহাসিকভাবে খুলনা-২ আসনটি বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে সাবেক স্পিকার শেখ রাজ্জাক আলী, ২০০১ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং ২০০৮ সালে নজরুল ইসলাম মঞ্জু এ আসনে বিজয়ী হন। ১৯৯৬ সালের পর জামায়াত এ আসনে প্রার্থী না দেওয়ায় এবারকার জয় দলটির জন্য নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভোট কম পড়া, দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, সমন্বয়ের ঘাটতি এবং মাঠপর্যায়ে দুর্বল প্রচারণা মঞ্জুর পরাজয়ের মূল কারণ। বিশেষ করে ভোটারদের ঘরে ঘরে পৌঁছাতে না পারা এবং নারী ভোটারদের কেন্দ্রমুখী করতে ব্যর্থতাকে বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।
অন্যদিকে জামায়াত মাঠপর্যায়ে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছে। দলীয় ঐক্য বজায় রাখা, ঘরে ঘরে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং নারী ভোটারদের সক্রিয় সম্পৃক্ততা তাদের জয় নিশ্চিত করেছে বলে স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মত।
২০২১ সালে মহানগর বিএনপির কমিটি ভাঙার পর থেকে মঞ্জুর সঙ্গে বর্তমান নেতৃত্বের দূরত্ব বাড়তে থাকে। প্রার্থী ঘোষণার পরও দলীয় দুই পক্ষের মধ্যে কোন্দল পুরোপুরি না কাটায় নির্বাচনী কার্যক্রমে প্রভাব পড়ে। খুলনা নগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা বলেন, “এবার কেন হেরেছি তা বিশ্লেষণ করতে হবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঐতিহ্যগত ভোটব্যাংকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা, মাঠপর্যায়ের দুর্বল সমন্বয় এবং অভ্যন্তরীণ দূরত্বই এ আসনে বিএনপির পরাজয়ের প্রধান কারণ। খুলনা-২ আসনের এই ফলাফল নগর রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।

