জয়পুরহাট প্রতিনিধি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী জয়পুরহাট–২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মো. আব্দুল বারীকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জোরালো হচ্ছে জেলা জুড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহলে এ নিয়ে আলোচনা-প্রত্যাশার ঢেউ উঠেছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কালাই উপজেলার কৃতিসন্তান, সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও সাবেক সচিব মো. আব্দুল বারী ধানের শীষ প্রতীকে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। এরপর থেকেই তাকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান বলে মত দিচ্ছেন জয়পুরহাট জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, সততা ও দক্ষতার কারণে তাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হলে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও কর্মসংস্থান খাতে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাও শক্তিশালী হবে—এমন প্রত্যাশা তাদের।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা দেখা যাচ্ছে। ‘Joypurhat-5930 Group’–এ এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “বিগত ৩০ বছরে জয়পুরহাট–২ আসনে কোনো মন্ত্রী পাইনি। সাবেক সচিব ও ডিসি আব্দুল বারী সাহেবকে আমরা মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই।” পোস্টে অনেকে অভিনন্দন জানিয়ে একই দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মাহবুব উল আলম লিটন বলেন, “দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও সৎ নেতৃত্বের মাধ্যমে তিনি ইতোমধ্যেই জয়পুরহাটবাসীর আস্থা অর্জন করেছেন। তার মেধা জাতীয় পর্যায়ে কাজে লাগানো উচিত।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণে মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পেলে তিনি নীতিনির্ধারণ ও উন্নয়ন বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন। তবে মন্ত্রিসভা গঠন সম্পূর্ণ দলীয় সিদ্ধান্ত ও জাতীয় রাজনৈতিক বাস্তবতার ওপর নির্ভরশীল বলেও তারা উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আব্দুল বারীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এটি একান্তই দলের প্রধানের সিদ্ধান্ত। তিনি কাকে দায়িত্ব দেবেন, সেটি তিনিই ভালো জানেন। এ বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই।”
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়পুরহাট–২ আসনের ১০৫টি কেন্দ্রে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–এর প্রার্থী আব্দুল বারী ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫ ভোট পেয়ে ৬৫ হাজার ৫৪৮ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর প্রার্থী এস এম রাশেদুল আলম সবুজ পান ৯২ হাজার ৫১৭ ভোট।

