মধুখালী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
ফরিদপুর চিনিকলের বর্জ্যে চন্দনা নদীর পানি কালচে হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে নদীর পানি দিয়ে সেচ ও দৈনন্দিন কাজ করতে পারছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা।
মঙ্গলবার দুপুরে মধুখালী–বালিয়াকান্দী সড়কের চন্দনা নদীর সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে দেখা যায়, মধুখালী থানাগেট খাল দিয়ে পানি নদীতে পড়ছে। এতে নদীর এক পাশের পানি পরিষ্কার থাকলেও অন্য পাশের পানি কালচে হয়ে গেছে। এলাকাবাসীর দাবি, এক মাস আগেও নদীর পানি স্বচ্ছ ছিল, এখন তা দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
পশ্চিম গাড়াখোলা এলাকার বাসিন্দা মোঃ জিল্লাল হোসেন বলেন, চিনিকলের বর্জ্য মিশে নদীর পানি কালচে হয়ে গেছে। এতে মাছসহ জলজ প্রাণীর বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। মধুখালী বাজারের সুমন সরকার, মনি বালা ও পুষ্প রানী জানান, দূষণের কারণে তারা গোসলসহ দৈনন্দিন কাজে নদীর পানি ব্যবহার করতে পারছেন না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ফরিদপুর চিনিকল এলাকা থেকে মিলগেট খাল দিয়ে কালো পানি নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে। বর্জ্য নির্গমনের নালা বস্তা দিয়ে বন্ধ করার চেষ্টা থাকলেও পানির চাপে তা কার্যকর হচ্ছে না। স্থানীয়দের দাবি, সম্প্রতি চিনিকলের যান্ত্রিক ত্রুটি ও শ্রমিকদের অসাবধানতায় আখের রস নষ্ট হয়ে খাল ও নদীতে পড়েছে, যা পরিবেশ দূষণের কারণ হয়েছে।
মধুখালী বাজারের বাসিন্দা ও শিক্ষক বৈদ্যনাথ সরকার বলেন, দূষণের কারণে নদীর পাশে হাঁটাও কষ্টকর হয়ে পড়েছে। নদীকূলের বাসিন্দা রহিমা বেগম জানান, আগে নদীর পানি দিয়ে কাপড় ধুতেন, কিন্তু এখন পানি কালো হয়ে যাওয়ায় তা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। স্থানীয়দের মতে, চিনিকলে মাড়াই বন্ধের এক থেকে দেড় মাস পর নদীর পানি আবার স্বাভাবিক হয়।
অভিযোগ অস্বীকার করে চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারেক ফরহাদ বলেন, “চিনিকলের বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলা হয় না। আমরা যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করছি। দু’চার ফোঁটা পানি যেতে পারে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো মাছ মরার খবর পাওয়া যায়নি।”
এ ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

