খুলনা প্রতিনিধি
খুলনার তেরখাদা উপজেলায় নির্বাচনী বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে পাঁচজনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ভোটগ্রহণ ও পরবর্তী বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও মারামারির ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের দাবি, তেরখাদা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম ও মধুপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম মোড়লের সমর্থকদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে এতে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরাও জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন—ইমরান মোল্লা (৪৫), ইবাদুল/ইরাদুল মোল্লা (৬০), কামরুল শেখ (৩৯), সাদি শেখ (৩৫) ও আনোয়ার (৪০)সহ আরও কয়েকজন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। আহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে—কোনো সূত্রে সাতজন, আবার কোনো সূত্রে নয়জন আহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, পূর্ব বিরোধের জেরে জামায়াতের নেতাকর্মীরা বিএনপির একাংশের ওপর অতর্কিত হামলা চালালে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষের নেতারা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
মধুপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম মোড়ল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, নির্বাচনী-পরবর্তী বিভিন্ন বিষয় নিয়েই মূলত সংঘর্ষের সূত্রপাত। তবে সঠিকভাবে কতজন আহত হয়েছেন, তা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি।
অন্যদিকে অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম দাবি করেন, “আমাদের ওপর জামায়াতের লোকজন হামলা করেছে। এটি আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নয়।” তিনি বলেন, তাদের অন্তত পাঁচজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
তেরখাদা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শহিদুল্লাহ জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

